TRENDING
সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন: সংরক্ষণ, জীবিকা ও উন্নয়নের সমন্বিত পথ October 8, 2026
ঢাকায় বসছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬ September 17, 2026
বিদেশমুখী হচ্ছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা September 2, 2026
বিমানে নির্দিষ্ট সময়ে খাবার পরিবেশন হয় কেন August 26, 2026
এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের ১৩তম আসরে হসপিটালিটি পার্টনার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশান August 23, 2026
Next
Prev
  • হোম
  • দেশ ভ্রমণ
    • ঢাকা
      • ঢাকা
      • ফরিদপুর
      • গাজীপুর
      • মানিকগঞ্জ
      • নারায়নগঞ্জ
      • মাদারিপুর
      • মুন্সিগঞ্জ
      • কিশোরগঞ্জ
      • নরসিংদী
      • রাজবাড়ি
      • শরিয়তপুর
      • টাঙ্গাইল
      • গোপালগঞ্জ
    • রাজশাহী
      • রাজশাহী
      • পাবনা
      • নাটোর
      • বগুড়া
      • জয়পুরহাট
      • সিরাজগঞ্জ
      • চাঁপাইনবাবগঞ্জ
      • নওগাঁ
    • চট্টগ্রাম
      • চট্টগ্রাম
      • কক্সবাজার
      • ব্রাহ্মণবাড়িয়া
      • ফেনী
      • কুমিল্লা
      • চাঁদপুর
      • লক্ষ্মীপুর
      • নোয়াখালী
      • রাঙ্গামাটি
      • বান্দরবান
      • খাগড়াছড়ি
    • সিলেট
      • সিলেট
      • মৌলভীবাজার
      • সুনামগঞ্জ
      • হবিগঞ্জ
    • রংপুর
      • রংপুর
      • দিনাজপুর
      • ঠাকুরগাঁও
      • কুড়িগ্রাম
      • লালমনিরহাট
      • নীলফামারি
      • পঞ্চগড়
      • গাইবান্ধা
    • খুলনা
      • খুলনা
      • যশোর
      • চুয়াডাঙ্গা
      • ঝিনাইদহ
      • কুষ্টিয়া
      • মাগুরা
      • মেহেরপুর
      • নড়াইল
      • সাতক্ষীরা
      • বাগেরহাট
    • বরিশাল
      • বরিশাল
      • ভোলা
      • বরগুনা
      • ঝালকাঠি
      • পিরোজপুর
      • পটুয়াখালি
    • ময়মনসিংহ
      • ময়মনসিংহ
      • শেরপুর
      • জামালপুর
  • বিদেশ ভ্রমণ
  • পর্যটন সেবা
    • এয়ারলাইনস
      • নেত্রকোনা
    • হোটেল ও রিসোর্ট
    • থিম পার্ক ও পিকনিক স্পট
    • টুরিস্ট ভেসেল
    • এজেন্ট ও অপারেটর
  • পর্যটন সংবাদ
  • পর্যটন ফিচার
    • দর্শনীয় স্থান
    • ইতিহাস ও ঐতিহ্য
    • উৎসব ও মেলা
    • স্থানীয় খাবার
    • সৌখিন কেনাকাটা
    • হোটেল ও রিসোর্ট
  • ভ্রমণ গল্প
  • ভিডিও
  • ছবি ঘর
  • সম্পাদকীয়
  • ক্যাটাগরি
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • কর্পোরেট
    • ক্যাম্পাস
    • প্রেস রিলিজ
    • অ্যাডভেঞ্চার
    • বেড়ানোর অভিজ্ঞতা
    • শিক্ষা ও দক্ষতা
    • পর্যটন চাকুরি
    • দর্শনীয় স্থান
    • ইতিহাস ও ঐতিহ্য
    • স্থানীয় খাবার
    • উৎসব ও মেলা
    • সৌখিন কেনাকাটা
    • নগর বিনোদন
    • দেশে বেড়ানো
    • বিদেশে বেড়ানো
    • কাছে বেড়ানো
    • এয়ারলাইনস
    • হোটেল ও রিসোর্ট
    • টুরিস্ট ভেসেল
    • থিম পার্ক
    • এজেন্ট ও অপারেটর
    • ট্রাভেল টিপস
    • সাক্ষাৎকার
    • মতামত
    • সম্পাদকীয়
Menu
  • হোম
  • দেশ ভ্রমণ
    • ঢাকা
      • ঢাকা
      • ফরিদপুর
      • গাজীপুর
      • মানিকগঞ্জ
      • নারায়নগঞ্জ
      • মাদারিপুর
      • মুন্সিগঞ্জ
      • কিশোরগঞ্জ
      • নরসিংদী
      • রাজবাড়ি
      • শরিয়তপুর
      • টাঙ্গাইল
      • গোপালগঞ্জ
    • রাজশাহী
      • রাজশাহী
      • পাবনা
      • নাটোর
      • বগুড়া
      • জয়পুরহাট
      • সিরাজগঞ্জ
      • চাঁপাইনবাবগঞ্জ
      • নওগাঁ
    • চট্টগ্রাম
      • চট্টগ্রাম
      • কক্সবাজার
      • ব্রাহ্মণবাড়িয়া
      • ফেনী
      • কুমিল্লা
      • চাঁদপুর
      • লক্ষ্মীপুর
      • নোয়াখালী
      • রাঙ্গামাটি
      • বান্দরবান
      • খাগড়াছড়ি
    • সিলেট
      • সিলেট
      • মৌলভীবাজার
      • সুনামগঞ্জ
      • হবিগঞ্জ
    • রংপুর
      • রংপুর
      • দিনাজপুর
      • ঠাকুরগাঁও
      • কুড়িগ্রাম
      • লালমনিরহাট
      • নীলফামারি
      • পঞ্চগড়
      • গাইবান্ধা
    • খুলনা
      • খুলনা
      • যশোর
      • চুয়াডাঙ্গা
      • ঝিনাইদহ
      • কুষ্টিয়া
      • মাগুরা
      • মেহেরপুর
      • নড়াইল
      • সাতক্ষীরা
      • বাগেরহাট
    • বরিশাল
      • বরিশাল
      • ভোলা
      • বরগুনা
      • ঝালকাঠি
      • পিরোজপুর
      • পটুয়াখালি
    • ময়মনসিংহ
      • ময়মনসিংহ
      • শেরপুর
      • জামালপুর
  • বিদেশ ভ্রমণ
  • পর্যটন সেবা
    • এয়ারলাইনস
      • নেত্রকোনা
    • হোটেল ও রিসোর্ট
    • থিম পার্ক ও পিকনিক স্পট
    • টুরিস্ট ভেসেল
    • এজেন্ট ও অপারেটর
  • পর্যটন সংবাদ
  • পর্যটন ফিচার
    • দর্শনীয় স্থান
    • ইতিহাস ও ঐতিহ্য
    • উৎসব ও মেলা
    • স্থানীয় খাবার
    • সৌখিন কেনাকাটা
    • হোটেল ও রিসোর্ট
  • ভ্রমণ গল্প
  • ভিডিও
  • ছবি ঘর
  • সম্পাদকীয়
  • ক্যাটাগরি
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • কর্পোরেট
    • ক্যাম্পাস
    • প্রেস রিলিজ
    • অ্যাডভেঞ্চার
    • বেড়ানোর অভিজ্ঞতা
    • শিক্ষা ও দক্ষতা
    • পর্যটন চাকুরি
    • দর্শনীয় স্থান
    • ইতিহাস ও ঐতিহ্য
    • স্থানীয় খাবার
    • উৎসব ও মেলা
    • সৌখিন কেনাকাটা
    • নগর বিনোদন
    • দেশে বেড়ানো
    • বিদেশে বেড়ানো
    • কাছে বেড়ানো
    • এয়ারলাইনস
    • হোটেল ও রিসোর্ট
    • টুরিস্ট ভেসেল
    • থিম পার্ক
    • এজেন্ট ও অপারেটর
    • ট্রাভেল টিপস
    • সাক্ষাৎকার
    • মতামত
    • সম্পাদকীয়

পদ্মায় হারানো স্থাপনার সন্ধানে

শাল পদ্মাতে ডুবে থাকা স্থাপনা- পুরাকীর্তির ছাদে দাঁড়িয়ে জেলেরা জাল দিয়ে মাছ ধরছে। প্রমত্তা পদ্মায় হাঁটুপানি। বিস্ময়কর! ভাবছিলাম, হয়তো এখানেও থেকে যেতে পারে ওয়ারী বটেশ্বরের মতো কোনো বিলুপ্ত জনপদ, নগরী অথবা ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে পুরাকীর্তিটি পানিতে ডুবে আছে।

0
পদ্মায় হারানো স্থাপনার সন্ধানে
0
SHARES
52
VIEWS
Share on FacebookShare on Twitter

লেখকঃ  মার্জিয়া লিপি – (লেখক, গবেষক ও পরিবেশবিদ)

হেমন্তের সকাল। দৈনিক পত্রিকার শিরোনামে জানতে পারি, পদ্মা নদীতে সন্ধান মিলেছে হারানো স্থাপনার। সেবার অফিসের কাজে যেতে হয়েছিল পদ্মা নদী আর রেশমের শহর রাজশাহীতে। উপশহর থেকে পদ্মা নদীতে হারানো স্থাপনার সন্ধানে বের হই সেই কাক ডাকা ভোরে। যদিও গন্তব্য আরও অনেক দূরে, পাবনার মোকসেদপুর। কয়েক মাস আগে পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে মনে উঁকি দেয় আগ্রহ আর কৌতূহল। বিশাল পদ্মাতে ডুবে থাকা স্থাপনা- পুরাকীর্তির ছাদে দাঁড়িয়ে জেলেরা জাল দিয়ে মাছ ধরছে। প্রমত্তা পদ্মায় হাঁটুপানি। বিস্ময়কর! ভাবছিলাম, হয়তো এখানেও থেকে যেতে পারে ওয়ারী বটেশ্বরের মতো কোনো বিলুপ্ত জনপদ, নগরী অথবা ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে পুরাকীর্তিটি পানিতে ডুবে আছে। অসম্ভব কিছুই না- ইতালির ঐতিহাসিক নগরীর অর্ধেকাংশ এরকম দুর্যোগে ডুবে গেছে সমুদ্রের পানিতে।

শহর থেকে একটু গাঁয়ের দিকে গেলেই টের পাওয়া যায় হেমন্তের সঞ্চার। ঋতুসন্ধির এই কালে একদিকে জ্বলে রাতের আকাশ প্রদীপ, অপরদিকে দিনের ঝলমলে রোদ। মেঘের চালচিত্রে প্রকৃতির সবুজ আভা ছড়িয়ে থাকে বিকেলের মাঠে মাঠে। অমৃতময় সন্ধ্যা কখনো কখনো ঢাকা পড়ে হালকা কুয়াশায়। হেমন্তে আকাশ থাকে নীল। নীল আকাশজুড়ে থাকে মেঘের আনাগোনা। পরিবেশ থাকে শীতের শৈত্য আর গ্রীষ্মের মাঝামাঝি। তাই এ সময়ে ভ্রমণে সুখ পাওয়া যায়। পাকশীতে সন্ধ্যারাতে ঘাসে ঢাকা ঝোপঝাড় থেকে ভেসে আসা একটানা ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর জোনাকির আলো এক রকমের মায়া ধরিয়ে দেয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে হেমন্ত স্বতন্ত্র ঋতু নয়- শরতেরই অংশ। তারপরেও কার্তিক, অগ্রহায়ণের আকাশ তারায় তারায় ভরে যায়। তারা চেনার উপযুক্ত কালের নাম এই হেমন্ত। একসাথে আকাশের যত বেশি অংশ দেখা যায় ততই তারা চেনার সুবিধা। হেমন্তের আকাশে সন্ধ্যায় জেগে ওঠে নক্ষত্রমাল। এ সময় তারা চেনা থাকলে আকাশ দেখতে মন্দ লাগে না।

পূর্ণিমা রাতের পদ্মা অন্যরকম। মনে আলাদা অনুভূতি সঞ্চারিত হয়। এক টুকরো মেঘ এসে জ্যোৎস্না ঢেকে দিলে জোড়াসেতুকে তখন আবছা আঁধার ঢেকে ফেলে। তাতে কল্পনায় বিচিত্র রূপ ফুটে ওঠে। যদিও সেই রূপ দেখার লোকের সংখ্যা ক্রমশ কমে আসছে। তারপরও পেপার মিলের পাম্পিং স্টেশনের কাছে গোল চত্বরে অনেককেই বসে থাকতে দেখা যায়। নির্জনতায় কয়েকটি প্রহর কাটিয়ে যায় পর্যটকরা। রূপসী পাকশী যেন একেক ঋতুতে একেক রকম রূপটান মেখে বসে থাকা রমণী। পদ্মার নিস্তরঙ্গ মেজাজ অনুভব করা যায় হেমন্ত ও শীতকালে। এ সময় পানিতে টান ধরা রেখা দেখা যায়, পানির রাগ থাকে না। বর্ষায় নদীর মাঝে প্রবল স্রোতে নাভি সৃষ্টি হয়- যা দেখে ভয় লাগে। হেমন্তের হাওয়ায় বিকেলে পদ্মার বুকে নৌকা ভ্রমণ মানেই পাকশী। জোড়াসেতুর ভেতর দিয়ে সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে তন্ময় হয়ে যেতে হয়। ছুটির দিনে এখানে অবকাশ যাপন মন্দ লাগে না।

আজকের দিনে অনেকের সাথেই পদ্মা নদীর পরিচয় বা সাক্ষাত হয়। ট্রেনযাত্রী হয়ে হার্ডিঞ্জ সেতু পেরিয়ে বা লালন শাহ্ সেতু থেকে যানবাহনে চেপে যেতে যেতে এক ঝলক নদী ও সেতু দেখা হয়ে যায়। অবশ্য ভাড়াটে নৌকায় বসে উজানে বা ভাটিতে ভেসে যাওয়ার সময় পদ্মার পানি ছুঁয়ে ছুঁয়ে দুই তীর প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা। নদীতে আগের মতো আর রকমারি নৌকার চলাচল নেই। লঞ্চ বা ফেরিও চলে না। অথচ এক সময় অসংখ্য নৌযান নদীর বুক চিড়ে চলাচল করতো। ২০০৪ এর মাঝামাঝি পর্যন্ত ফেরিও চলেছে। লালন শাহ্ সেতু চালুর পর এখন আর নদীর বুকে ব্যস্ততা নেই। কেবল গোটা কতক ডিঙি নিয়ে জেলেরা মাছ শিকারে ভাসে। যদি আকাশের দিকে দৃষ্টি তোলা যায়, তাহলে খানিক দার্শনিক ভাব আসে বিস্ময়কর সৌন্দর্যের চমকে। দিগন্তের ফিকে নীলে থোকা থোকা মেঘ ভেসে যায়। হেমন্তের দিনের বেলায় আকাশে তেমন রঙিন মেঘের সমাগম ঘটে না। হেমন্তের আকাশ যেন সূবর্ণবৎ জোড়াসেতুকে গাঢ় আলিঙ্গনের জন্য মেঘাবরণ ছায়ার আঁচল ছড়িয়ে দেয়। নিসর্গের মেঘমাত্রিক সৌন্দর্য ইতিহাস, অভিজ্ঞতা মিলে পাকশী অনুভবযোগ্য স্থান।

সূর্য উঠার পর পরই একরাশ উত্তেজনা ও অ্যাডভেঞ্চারের কল্পনা নিয়ে পদ্মা নদীর উপশহর থেকে একটা ছোট সাদা গাড়িতে চেপে বসি। যাত্রাপথের সবকিছুই কল্পনার রঙে একের পর এক জাল বুনে যাচ্ছে- গাছ, লতা-পাতা দৃষ্টিসীমার সবকিছু দিয়ে। শহরের কোলাহলকে পাশ কাটিয়ে কাজলা, মতিহারের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরকে বাঁ দিকে রেখে এগিয়ে চলি; ঘড়ির কাটার সাথে পাল্লা দিয়ে। চলতি পথ ধরেই রেশম উন্নয়ন বোর্ড। সিল্কের জন্য বিশেষ খ্যাত এই বিভাগীয় শহর। চোখজুড়ে আছে সোনালী রেশম পোকা থেকে সুতা বের করা হয়। শুককীট হতে মথ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে রেশম পোকার জীবন চক্র। নির্দিষ্ট বয়সে রেশম গুটি পানিতে সিদ্ধ করে সুতা বের করা হয়। রেশম পোকার জীবন যেন ‘আপনা মাংসে হরিণা বৈরী।’ লালা নিঃসৃত কষ বা সোনালী রেশমী সুতার কারণে বিসর্জিত হয় রেশম পোকার জীবন।

কালো পিচের রাস্তাা দিয়ে এগিয়ে যেতে থাকি। দর্শনীয় নতুন কিছু দেখতেই গাড়িচালক মান্নান ভাইয়ের কাছ থেকে জেনে নিই ‘এ কথা ও কথার’ আদি অন্ত। ঢাকা নগরীর ব্যস্ততা এখানে কোথাও নেই। সময়ের সাথে গতি ছন্দ রেখেই চলছে। নেই কোনো যানজট, হৈচৈ যাতে ছন্দপতন হয় ভাবনার। ভাবছিলাম মনে মনে, এখানে জীবন অনেক সহজ, সতেজ আর নিয়ন্ত্রিত। ঘণ্টাখানেক পথ চলার পর হঠাৎই দৃষ্টি চলে যায়, লাল টেরাকোঠার পুরনো স্থাপনার দিকে। একেবারে হাইওয়ের পাশেই বাঘা মসজিদ কমপ্লেক্স। রাস্তার উপর কিছু দোকান পাট, চায়ের স্টল, দর্শনার্থীর জটলা। গন্তব্য যদিও আরও দূরে, যেতে হবে সেই মোকসেদপুর। কিন্তু একবার চোখে পড়ার পর মনে হলো, এখনই দেখে নিই। যদি ফেরার পথে সূর্যের আলো না থাকে, তাহলে প্রায় পাঁচশত বছরের পুরনো স্থাপনার অনেক কিছুই থেকে অদেখা, অধরা থাকবে। রীতিমতো আশ্চর্য রকম সৌর্ন্দয। এখনো অনেক বেশি আনকোরা, টেরাকোঠা স্থাপনাটি। বাঘা মসজিদ কমপ্লেক্স ধরে সামনে, পাশে, চারপাশে দেখছি অবাক করা মগ্নমুগ্ধ দৃষ্টিতে।
এক সময় নাকি বাঘায় গভীর বন জঙ্গলে বাঘের দেখা মিলতো। বিভাগীয় শহর রাজশাহী থেকে ২৪ কি.মি দক্ষিণ পূর্বে বাঘা ওয়াকফ্ এস্টেটের সদর দপ্তর। উপমহাদেশের অনেক জায়গার মতোই সভ্যতার পত্তন হয় এখানে নদীর ধারে। বাংলার সুলতান গৌড়ের শাসন আমলে ১৫২৩ খ্রিষ্ট্রাব্দে নসরত শাহ বাঘা মসজিদ নির্মাণ করেন। ছোট স্বতন্ত্র লাল ইটে নকশা করায় আরবি ক্যালিওগ্রাফের শিলালিপির টেরাকোটা এই মসজিদের অনন্য বৈশিষ্ট্য।

বাঘা মসজিদকে ঘিরে রয়েছে নানা রকম কিংবদন্তি। শোনা যায়, নির্মাণকাজের এক পর্যায়ে সন্ধ্যায় গম্বুজের কাজ অসমাপ্ত রেখে রাজমিস্ত্রিরা চলে যান। কিন্তু পরদিন সকালে দেখা যায় গম্বুজটি পূর্ণ সমাপ্ত অবস্থায়। হযরত শাহদৌল্লাহ ও ৫ জন আত্মীয়ের মাজার মসজিদের সাথেই। আরেক পাশে রয়েছে বিশাল সাগরের মতো দীঘি। কিংবদন্তি রয়েছে- অনেক বছর আগে দীঘিতে রক্ষিত বিশাল হাড়ি ও বাসনপত্রে রান্না ও খাওয়ার পর্ব চলতো ওরসের মেলায়। ওরস শেষে হাড়ি ও বাসনপত্র দীঘিতে ফেরত দিয়ে দিতে হতো। এ রকমই রেওয়াজ ছিল। এভাবেই চলতে থাকে বছরের পর বছর। কিন্তু কলিকালে- এখন আর এমনটি হচ্ছে না।

লোক মুখে শোনা কথা, হয়তো কারো বিশ্বাস ভঙ্গের কারণে এমনটি হয়েছে, দীঘিতে ফেরত দেওয়া হয়নি হাড়ি ও বাসনকোসন। ওরসের সময় ছাড়াও প্রায়ই মানত হিসেবে দূর দূরান্ত থেকে টাকা, ছাগল, মোমবাতি, আগরবাতিসহ আরও অনেক কিছু নিয়ে আসেন ভক্তবৃন্দ। এরকম কয়েকজনের দেখাও মিললো বাঘা মসজিদ প্রান্তরে। মহাসড়কের পাশে ৪৮৭ বছরের পুরনো বাঘা মসজিদ কমপ্লেক্স যা বর্তমানে প্রতœতাত্ত্বিক বিভাগের সংরক্ষণে রয়েছে।

মসজিদের স্থাপত্যরীতির সাথে মিল রেখে নির্মিত হয়েছে তোরণ যার পাশে সিঁড়ি দিয়ে নেমে বাঘার বিশাল দীঘি। বসে থাকা স্থানীয় কয়েকেজনের কাছে জিজ্ঞেস করে জানতে পারি, অল্প দূরে পদ্মা নদীতে ডুবে থাকা পুরাকীর্তির কথা। খুব উচ্ছ্বসিত হয়ে চায়ের দোকানে বসে থাকা দুই তিনজন স্থানীয় ভাষায় বলছিলেন- ‘আফা, আফনে কোন পত্রিকার লোক?’ তারা ধরেই নিয়েছে আবারও পানিতে ডুবে থাকা পুরাকীর্তি পত্রিকায় খবর হতে যাচ্ছে। হাতে সময় কম থাকায় আড্ডাটা খুব একটা জমে ওঠেনি। বলতে বলতেই কল্পনার জালে হারানো ইতিহাস বার বারই যেন আটকাচ্ছিল। একেবারে বাংলাদেশের অন্যান্য পাড়াগাঁয়ের ভূ-দৃশ্য, সবুজ, শ্যামল, নিরব, স্নিগ্ধ। আশপাশের জমিতে হাল দিচ্ছে ব্যস্ত কৃষাণ, কোথাও ধান কাটার পর খালি জমি পড়ে আছে, পাশে কিছু ফেলে যাওয়া ধানের বিছালিসহ। একপাশে ক্ষেতে আল ধরে সারি সারি কলাগাছ। পথের পাশেই একটা গরুর পিঠে কালো ফিঙ্গে বসে আছে, লেজ দিয়ে বার বার ফিঙ্গেটিকে তাড়ানোর দৃশ্য। কোথাও ফসল বোনার জন্য সমান দূরত্বে উঁচু করে মাটির ঢেউয়ের পর ঢেউ। সবুজ ঘাসের উপর হলুদ প্রজাপতির চঞ্চল ডানায় ভর করে উড়ে উড়ে বেরাচ্ছে। মাটির পথ ধরে কিছু দূরে ছোট চাতালে ধবধবে সাদা কয়েকটি বক ডানা মেলে উড়ছে কীসের সন্ধানে কে জানে? তবে এক সময় প্রমত্তা পদ্মায় এসে যখন পৌঁছালাম তখন দৃষ্টিসীমায় পুরাকীর্তির কোনো চিহ্ন দেখতে পেলাম না। একপাশে নদীর চর, ধানক্ষেত, নদীতে জাল দিয়ে মাছ ধরায় ব্যস্ত জেলে। কল্পনায় মিলিয়ে দেখছিলাম- মাঝনদীতে জেলে পুরাকীর্তির ছাদে দাঁড়িয়ে জাল মেলে মাছ ধরছে। জেলেরাও জানালেন এমনটিই করছিলেন তারা চৈত্র বৈশাখ মাসে যখন নদীর পানি কম ছিল। মাছ ধরা ছাড়াও তখন শ্যাওলা ধরা ছাদের পাশে দাঁড়িয়ে হাত স্পর্শ করছিলেন পুরাকীর্তিটির দরজা জানালায়।

মোফাজ্জল হোসেন
+ postsBio
  • মোফাজ্জল হোসেন
    বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার অন্তিম সান্নিধ্য ও কিছু স্মৃতি
  • মোফাজ্জল হোসেন
    লীলাবতী নাগকে নিয়ে এলিজার তথ্যচিত্রের প্রিমিয়ার শো
  • মোফাজ্জল হোসেন
    ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে ঢাকার রিকশাচিত্র
  • মোফাজ্জল হোসেন
    ৬০ বছর আগে দেখা কবিগুরুর শিলাইদহ
  • মোফাজ্জল হোসেন
    বেহুলার ভাসান
  • মোফাজ্জল হোসেন
    সিরাজগঞ্জে রবীন্দ্র কাছারিবাড়ির সৌন্দর্য রক্ষায় আদালতের নির্দেশনা
  • মোফাজ্জল হোসেন
    জামালপুর জেলার প্রত্নপযর্টন সম্ভাবনা
  • মোফাজ্জল হোসেন
    ছুটির দিনে ঘুরে আসুন আহসান মঞ্জিল
  • মোফাজ্জল হোসেন
    বাংলায় রেনেসাঁর ঐতিহ্য ‘ব্রাহ্ম সমাজ মন্দির’
  • মোফাজ্জল হোসেন
    ভানুবিল মাঝেরগাঁও গ্রাম: গ্রামীণ অর্থনীতি গতিশীল করছে পর্যটন
Tags: Rajshahiপদ্মারাজশাহীসন্ধানস্থাপনাহারানো
ShareTweet
Previous Post

নারীদের নিরাপদ ভ্রমণে ‘লেডিবার্ড’

Next Post

দক্ষিণের পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনা

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • Trending
  • Comments
  • Latest
রাজশাহী জেলার দর্শনীয় ২১ স্থানে যেভাবে যাবেন ও থাকবেন

রাজশাহী জেলার দর্শনীয় ২১ স্থানে যেভাবে যাবেন ও থাকবেন

August 21, 2026
সিলেট শহরের দর্শনীয় যতো স্থান

সিলেট শহরের দর্শনীয় যতো স্থান

April 20, 2026
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী খাবার

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী খাবার

May 31, 2024
চট্টগ্রামে পর্যটকদের জন্য চালু হলো বিশেষ বাস

চট্টগ্রামে পর্যটকদের জন্য চালু হলো বিশেষ বাস

May 13, 2024

বাংলাদেশ নামে হিমালয়ের শৃঙ্গ

0
লালবাগ কেল্লায় লাইট এন্ড সাউন্ড শো

লালবাগ কেল্লায় লাইট এন্ড সাউন্ড শো

0
ল্যান্ড অফ দি পিসফুল থান্ডার

ল্যান্ড অফ দি পিসফুল থান্ডার

0
বাংলাদেশ নামে হিমালয়ের শৃঙ্গ

বাংলাদেশ নামে হিমালয়ের শৃঙ্গ

0
সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন: সংরক্ষণ, জীবিকা ও উন্নয়নের সমন্বিত পথ

সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন: সংরক্ষণ, জীবিকা ও উন্নয়নের সমন্বিত পথ

October 8, 2026
ঢাকায় বসছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬

ঢাকায় বসছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬

September 17, 2026
বিদেশমুখী হচ্ছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা

বিদেশমুখী হচ্ছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা

September 2, 2026
বিমানে নির্দিষ্ট সময়ে খাবার পরিবেশন হয় কেন

বিমানে নির্দিষ্ট সময়ে খাবার পরিবেশন হয় কেন

August 26, 2026

Recent News

সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন: সংরক্ষণ, জীবিকা ও উন্নয়নের সমন্বিত পথ

সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন: সংরক্ষণ, জীবিকা ও উন্নয়নের সমন্বিত পথ

October 8, 2026
ঢাকায় বসছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬

ঢাকায় বসছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬

September 17, 2026
বিদেশমুখী হচ্ছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা

বিদেশমুখী হচ্ছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা

September 2, 2026
বিমানে নির্দিষ্ট সময়ে খাবার পরিবেশন হয় কেন

বিমানে নির্দিষ্ট সময়ে খাবার পরিবেশন হয় কেন

August 26, 2026

পর্যটন বিচিত্রা

ভ্রমণ বিষয়ক পত্রিকা ।
বেড়ানোর সকল খোঁজখবর ও পর্যটন সেবার যোগসুত্র পর্যটন বিচিত্রা।
কোথায় যাবেন? কীভাবে যাবেন? কোথায় থাকবেন? কি দেখবেন? কখন দেখবেন? এসবের সহজ সমীকরণ পর্যটন বিচিত্রা।
পড়তে পড়তে গন্তব্যে …

পর্যটন বিচিত্রা
প্রকাশক ও সম্পাদক : মহিউদ্দিন হেলাল

সম্পাদক কর্তৃক সম্পাদকীয় কার্যালয় থেকে প্রকাশিত।

নিবন্ধন সালঃ ২০০৫

আমাদের সাথে সংযুক্ত থাকুন

সর্বশেষ সংযোজন

পর্যটন সংবাদ

সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন: সংরক্ষণ, জীবিকা ও উন্নয়নের সমন্বিত পথ

October 8, 2026
পর্যটন সংবাদ

ঢাকায় বসছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬

September 17, 2026
আন্তর্জাতিক

বিদেশমুখী হচ্ছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা

September 2, 2026

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

বাড়ি -৯৭/১,  ফ্লাট– ২/বি, শুক্রাবাদ,
ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৭

ফোন: +৮৮-০২-২২২২৪২৯৪৪, ০১৯৭০০০৪৪৪৭
ইমেইল: [email protected]

পর্যটন বিচিত্রার অন্যান্য উদ্যোগ

© সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি ও ভিডিও অনুমতি ব্যতিরেকে প্রকাশ বা ব্যবহার করা বেআইনি।

No Result
View All Result
  • #2302 (no title)
  • 404 Page Not Found
  • Bangladesh youth Tourism Fest
  • Video
  • ট্রাভেল সপ
  • পড়তে পড়তে গন্তব্যে…
  • পর্যটন ব্লগ