TRENDING
সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন: সংরক্ষণ, জীবিকা ও উন্নয়নের সমন্বিত পথ October 8, 2026
ঢাকায় বসছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬ September 17, 2026
বিদেশমুখী হচ্ছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা September 2, 2026
বিমানে নির্দিষ্ট সময়ে খাবার পরিবেশন হয় কেন August 26, 2026
এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের ১৩তম আসরে হসপিটালিটি পার্টনার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশান August 23, 2026
Next
Prev
  • হোম
  • দেশ ভ্রমণ
    • ঢাকা
      • ঢাকা
      • ফরিদপুর
      • গাজীপুর
      • মানিকগঞ্জ
      • নারায়নগঞ্জ
      • মাদারিপুর
      • মুন্সিগঞ্জ
      • কিশোরগঞ্জ
      • নরসিংদী
      • রাজবাড়ি
      • শরিয়তপুর
      • টাঙ্গাইল
      • গোপালগঞ্জ
    • রাজশাহী
      • রাজশাহী
      • পাবনা
      • নাটোর
      • বগুড়া
      • জয়পুরহাট
      • সিরাজগঞ্জ
      • চাঁপাইনবাবগঞ্জ
      • নওগাঁ
    • চট্টগ্রাম
      • চট্টগ্রাম
      • কক্সবাজার
      • ব্রাহ্মণবাড়িয়া
      • ফেনী
      • কুমিল্লা
      • চাঁদপুর
      • লক্ষ্মীপুর
      • নোয়াখালী
      • রাঙ্গামাটি
      • বান্দরবান
      • খাগড়াছড়ি
    • সিলেট
      • সিলেট
      • মৌলভীবাজার
      • সুনামগঞ্জ
      • হবিগঞ্জ
    • রংপুর
      • রংপুর
      • দিনাজপুর
      • ঠাকুরগাঁও
      • কুড়িগ্রাম
      • লালমনিরহাট
      • নীলফামারি
      • পঞ্চগড়
      • গাইবান্ধা
    • খুলনা
      • খুলনা
      • যশোর
      • চুয়াডাঙ্গা
      • ঝিনাইদহ
      • কুষ্টিয়া
      • মাগুরা
      • মেহেরপুর
      • নড়াইল
      • সাতক্ষীরা
      • বাগেরহাট
    • বরিশাল
      • বরিশাল
      • ভোলা
      • বরগুনা
      • ঝালকাঠি
      • পিরোজপুর
      • পটুয়াখালি
    • ময়মনসিংহ
      • ময়মনসিংহ
      • শেরপুর
      • জামালপুর
  • বিদেশ ভ্রমণ
  • পর্যটন সেবা
    • এয়ারলাইনস
      • নেত্রকোনা
    • হোটেল ও রিসোর্ট
    • থিম পার্ক ও পিকনিক স্পট
    • টুরিস্ট ভেসেল
    • এজেন্ট ও অপারেটর
  • পর্যটন সংবাদ
  • পর্যটন ফিচার
    • দর্শনীয় স্থান
    • ইতিহাস ও ঐতিহ্য
    • উৎসব ও মেলা
    • স্থানীয় খাবার
    • সৌখিন কেনাকাটা
    • হোটেল ও রিসোর্ট
  • ভ্রমণ গল্প
  • ভিডিও
  • ছবি ঘর
  • সম্পাদকীয়
  • ক্যাটাগরি
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • কর্পোরেট
    • ক্যাম্পাস
    • প্রেস রিলিজ
    • অ্যাডভেঞ্চার
    • বেড়ানোর অভিজ্ঞতা
    • শিক্ষা ও দক্ষতা
    • পর্যটন চাকুরি
    • দর্শনীয় স্থান
    • ইতিহাস ও ঐতিহ্য
    • স্থানীয় খাবার
    • উৎসব ও মেলা
    • সৌখিন কেনাকাটা
    • নগর বিনোদন
    • দেশে বেড়ানো
    • বিদেশে বেড়ানো
    • কাছে বেড়ানো
    • এয়ারলাইনস
    • হোটেল ও রিসোর্ট
    • টুরিস্ট ভেসেল
    • থিম পার্ক
    • এজেন্ট ও অপারেটর
    • ট্রাভেল টিপস
    • সাক্ষাৎকার
    • মতামত
    • সম্পাদকীয়
Menu
  • হোম
  • দেশ ভ্রমণ
    • ঢাকা
      • ঢাকা
      • ফরিদপুর
      • গাজীপুর
      • মানিকগঞ্জ
      • নারায়নগঞ্জ
      • মাদারিপুর
      • মুন্সিগঞ্জ
      • কিশোরগঞ্জ
      • নরসিংদী
      • রাজবাড়ি
      • শরিয়তপুর
      • টাঙ্গাইল
      • গোপালগঞ্জ
    • রাজশাহী
      • রাজশাহী
      • পাবনা
      • নাটোর
      • বগুড়া
      • জয়পুরহাট
      • সিরাজগঞ্জ
      • চাঁপাইনবাবগঞ্জ
      • নওগাঁ
    • চট্টগ্রাম
      • চট্টগ্রাম
      • কক্সবাজার
      • ব্রাহ্মণবাড়িয়া
      • ফেনী
      • কুমিল্লা
      • চাঁদপুর
      • লক্ষ্মীপুর
      • নোয়াখালী
      • রাঙ্গামাটি
      • বান্দরবান
      • খাগড়াছড়ি
    • সিলেট
      • সিলেট
      • মৌলভীবাজার
      • সুনামগঞ্জ
      • হবিগঞ্জ
    • রংপুর
      • রংপুর
      • দিনাজপুর
      • ঠাকুরগাঁও
      • কুড়িগ্রাম
      • লালমনিরহাট
      • নীলফামারি
      • পঞ্চগড়
      • গাইবান্ধা
    • খুলনা
      • খুলনা
      • যশোর
      • চুয়াডাঙ্গা
      • ঝিনাইদহ
      • কুষ্টিয়া
      • মাগুরা
      • মেহেরপুর
      • নড়াইল
      • সাতক্ষীরা
      • বাগেরহাট
    • বরিশাল
      • বরিশাল
      • ভোলা
      • বরগুনা
      • ঝালকাঠি
      • পিরোজপুর
      • পটুয়াখালি
    • ময়মনসিংহ
      • ময়মনসিংহ
      • শেরপুর
      • জামালপুর
  • বিদেশ ভ্রমণ
  • পর্যটন সেবা
    • এয়ারলাইনস
      • নেত্রকোনা
    • হোটেল ও রিসোর্ট
    • থিম পার্ক ও পিকনিক স্পট
    • টুরিস্ট ভেসেল
    • এজেন্ট ও অপারেটর
  • পর্যটন সংবাদ
  • পর্যটন ফিচার
    • দর্শনীয় স্থান
    • ইতিহাস ও ঐতিহ্য
    • উৎসব ও মেলা
    • স্থানীয় খাবার
    • সৌখিন কেনাকাটা
    • হোটেল ও রিসোর্ট
  • ভ্রমণ গল্প
  • ভিডিও
  • ছবি ঘর
  • সম্পাদকীয়
  • ক্যাটাগরি
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • কর্পোরেট
    • ক্যাম্পাস
    • প্রেস রিলিজ
    • অ্যাডভেঞ্চার
    • বেড়ানোর অভিজ্ঞতা
    • শিক্ষা ও দক্ষতা
    • পর্যটন চাকুরি
    • দর্শনীয় স্থান
    • ইতিহাস ও ঐতিহ্য
    • স্থানীয় খাবার
    • উৎসব ও মেলা
    • সৌখিন কেনাকাটা
    • নগর বিনোদন
    • দেশে বেড়ানো
    • বিদেশে বেড়ানো
    • কাছে বেড়ানো
    • এয়ারলাইনস
    • হোটেল ও রিসোর্ট
    • টুরিস্ট ভেসেল
    • থিম পার্ক
    • এজেন্ট ও অপারেটর
    • ট্রাভেল টিপস
    • সাক্ষাৎকার
    • মতামত
    • সম্পাদকীয়

রিকশার আদিকথা ও রিকশাচিত্রের আদ্যোপান্ত

৬ ডিসেম্বর ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে ঢাকার রিকশা ও রিকশাচিত্র। জামদানি বয়ন শিল্প, শীতলপাটি বয়ন শিল্প, বাউল গান ও মঙ্গল শোভাযাত্রার পর প্রায় ৬ বছরের বিরতিতে বাংলাদেশের পঞ্চম অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে ঢাকার রিকশা ও রিকশাচিত্র এ স্বীকৃতি লাভ করলো। তিন চাকার এই বাহনটি ঢাকাসহ সারাদেশে অত্যন্ত প্রচলিত ও জনপ্রিয় হলেও এটি আমাদের নিজস্ব উদ্ভাবন নয়।

0
রিকশার আদিকথা ও রিকশাচিত্রের আদ্যোপান্ত
0
SHARES
177
VIEWS
Share on FacebookShare on Twitter

পর্যটন বিচিত্রা প্রতিবেদন

পৃথিবীর অনেক দেশ থেকে রিকশার ব্যবহার উঠে গেলেও বাংলাদেশে রয়েছে এর বহুল প্রচলন। ঢাকাকে অনেকে বলেন রিকশার নগরী। মানব-চালিত মানববাহী এই বাহনটি বাংলাদেশের বাইরে আর কোনো দেশেই এতো পরিমাণে নেই। এজন্যই হয়তো ঢাকাকে রিকশার নগরী বলেন অনেকে। অথচ এই রিকশার উদ্ভব বাংলাদেশে হয়নি। হয়েছে জাপানে। বেশিরভাগ গবেষণা তাই বলছে। আবার কোনো কোনো গবেষকদের মতে এই রিকশা তৈরি করেছেন মার্কিনীরা। রিকশা আবিষ্কারের সঠিক ইতিহাস নিয়ে এমন অনেক মতভেদ আছে।
বাংলাদেশে যে প্যাডেল দেয়া সাইকেল রিকশার প্রচলন সেটা সিঙ্গাপুর থেকে এসেছে বলে ইতিহাসবিদ ও গবেষক মুনতাসির মামুনের স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী ঢাকা বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুরুর দিকে কোন রিকশাই তিন চাকার ছিল না। সেগুলো মূলত দুই চাকায় ভর করে চলতো এবং সামনে ছিল লম্বা হাতল।
এই হাতল ধরে একজন মানুষ ঠেলাগাড়ির মতো হেঁটে বা দৌড়ে এই রিকশা টেনে নিতেন। সে সময় ‘রিকশা’ বলতে এ ধরনের হাতে টানা রিকশাকেই বোঝানো হতো। পরে দুই চাকার রিকশার ডিজাইন তিন চাকার রিকশায় বিকশিত হয়।
মানুষ বহনের কাজে বাহনটি জনপ্রিয়তা পেলে ১৮৭০ সালের জাপান সরকার ওই তিনজনকে এই বাহনটি বাণিজ্যিকভাবে তৈরি ও বিক্রির অনুমোদন দেয়।
রিকশা চালানোর লাইসেন্স হিসেবে এ তিনজনের যে কোনও একজনের অনুমোদনের সিল লাগতো। এভাবে আস্তে আস্তে রিকশা জাপান থেকে ভারত, চীন, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলাদেশে এলো কিভাবে
রিকশা আবিষ্কারের পেছনে যেসব দেশের নাম উঠে এসেছে, সেখানকার কোথাও এই বাহনটির কোনো অস্তিত্ব এখন নেই।
বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, জাপানি ভাষায় ‘নিনতাকু’ নামে পরিচিত রিকশার উৎপত্তি জাপানে হলেও বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকের মধ্যে জাপান থেকে সাইকেল রিকশা উঠে যায়। বরং বাংলাদেশে এসেই এই বাহনটি প্রসার ও জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
মুনতাসির মামুনের গবেষণা প্রবন্ধ অনুযায়ী বাংলাদেশে এই রিকশা এসেছে ১৯৩০ এর দশকে ভারত থেকে। আর ভারতে প্রথম রিকশার প্রচলন শুরু হয় ১৮৮০ সালের দিকে সিমলা শহরে। বলা হয়, রেভারেন্ট জে ফরডাইস নামের এক স্কটিশ মিশনারী প্রথম এই রিকশা এনেছেন। এর প্রায় ২০ বছর পর ১৯০০ সালে সেই রিকশা কলকাতায় আসে। সেখানেও প্রথমে যাত্রী বহনের জন্য নয় বরং মালামাল টানার জন্য রিক্সা ব্যবহার করা হত। কলকাতায় রিকশায় যাত্রী বহন শুরু হয় ১৯১৪ সাল থেকে।
তখনকার পৌরসভা কর্তৃপক্ষ, প্রথমবারের মতো রিকশায় যাত্রী পরিবহনের অনুমতি দিয়েছিল বলে জানা গেছে। মিয়ানমারের রেঙ্গুনে ততদিনে রিকশা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বলে বাংলাপিডিয়ায় উল্লেখ করা হয়। কথিত আছে সেই রেঙ্গুন থেকেই চট্টগ্রামে প্রথম রিকশা আসে ১৯১৯ সালের দিকে। এরপর রিকশা আসে ঢাকায়। তবে ঢাকার রিকশা এসেছিল ভারতের কলকাতা থেকে। ১৯৩০ এর দশকে। এ কারণে দুই রিকশার কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য ছিল আলাদা।
তবে মুনতাসির মামুনের গবেষণা প্রবন্ধে এই সময়কাল কিছুটা ভিন্নভাবে উল্লেখ আছে। সেখানে বলা হয়েছে ১৯৩০ এর দশকে কলকাতায় প্যাডেল চালিত সাইকেল রিকশা চালু হয়েছিল।
এরপর ১৯৩০ এর দশকের মাঝামাঝি সেই রিকশা বাংলাদেশে আসে এবং ১৯৩৭ সালে আসে ঢাকায়। বাংলাদেশে শুরু থেকে এই সাইকেল রিকশার প্রচলন ঘটে, মানুষের হাতে টানা রিকশা নয়।
মুনতাসির মামুন বলেছেন, সিঙ্গাপুরে গত শতকের ত্রিশের দশকে ব্যাপক হারে সাইকেল রিকশা চালু করা হয়। সেখান থেকে ঢাকাসহ এশিয়ার বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে মোমিনুল হকের আত্মজীবনীতে এ সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ১৯৪০ সালের জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জের পাট কোম্পানি রেলি ব্রাদার্সের এক কেরানি কলকাতা থেকে একটি রিকশা নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসেন। তার মতে, ‘এর আগে পূর্ববঙ্গে কেউ রিকশা দেখেনি।’
প্রথম রিকশার মালিক ছিলেন যদু গোপাল দত্ত। প্রথম রিকশা চালকের নাম নরেশ বলে মোমিনুল হকের আত্মজীবনীতে উল্লেখ আছে। এরপর যদু গোপাল দত্তের প্রতিবেশী শিশির মিত্র ৪টি রিকশা আমদানি করেন। সেই থেকেই অল্প অল্প করে রিকশা আমদানি শুরু হয়। হাতে টানা কিছু রিকশাও আমদানি করা হয়েছিল কিন্তু তাতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হওয়ায় পৌরসভা তা বন্ধ করে দেয়। মূলত আমদানি করা রিকশাগুলোয় চেইন লাগানো ছিল বলে বইটিতে উল্লেখ করা হয়। যেন মানুষের পরিশ্রম কম হয়।
বাংলাপিডিয়া বলছে, নারায়ণগঞ্জ এবং নেত্রকোনা শহরে বসবাসরত ইউরোপীয় পাট রপ্তানিকারকরা তাদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য, ১৯৩৮ সালে প্রথম কলকাতা থেকে চেইন লাগানো রিকশা আমদানি করে।
এরপর ঢাকার সূত্রাপুর এলাকার একজন বাঙালি জমিদার এবং ওয়ারীর এক গণ্যমান্য ব্যক্তি রিকশা কিনে ঢাকায় প্রচলন করেন বলে জানা যায়। এভাবেই বাংলাদেশে রিকশা চলাচল শুরু হয়।
এ পরিপ্রেক্ষিতে বলা যেতে পারে ঢাকায় রিকশা প্রচলিত হয়েছে ১৯৪০ সালে বা তার কিছু পরে। তবে তখনও রিকশা তেমন একটা জনপ্রিয় বাহন হয়ে ওঠেনি।
পৌরসভার রেকর্ড মতে ১৯৪১ সালেও ঢাকায় রিকশার সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৭টি। ১৯৪৭ সালে সেটি বেড়ে ১৮১টিতে দাঁড়ায়। ১৯৫১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ঢাকার জনসংখ্যা ছিল মাত্র চার লাখ। কিন্তু ১৯৯৮ সালে, শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৮০ লাখে গিয়ে দাঁড়ায় এবং নিবন্ধভুক্ত রিকশার সংখ্যা দাঁড়ায় ১,১২,৫৭২-এ।
সে বছর বাংলাদেশের অন্যান্য সব জেলায় রিকশার সংখ্যা ২,৭৪,২৬৫ এবং দেশের গ্রামাঞ্চলে এর মোট সংখ্যা ছিল ৯১,০৪০টি। এরপর ধীরে ধীরে এই সংখ্যা বাড়তেই থাকে। ঢাকাতে প্রথম রিকশার লাইসেন্স ১৯৪৪ সালের দিকে দেয়া হয় বলে জানা গেছে।
রিকশার বিবর্তন
ঢাকায় রিকশা আসার আগে শহরের মানুষ ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি, পালকি এবং শহরের খালে নৌকা ব্যবহার করত। রিকশা আসার পর এই যান ঢাকার অধিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল জাগায়।
ধীরে ধীরে রিকশা এবং রিকশা ভ্যান এখন দ্রæত ঘোড়ার গাড়ি এবং গরুর গাড়ির মতো সনাতন যানের স্থান দখল করে নেয় বলে বাংলাপিডিয়া সূত্রে জানা গেছে। এখন বাংলাদেশে যেসব রিকশা চলতে দেখা যায়, সেগুলো আগের চাইতে অনেকটাই আলাদা। বর্তমানের রিকশাগুলো প্যাডেল চালিত। ফলে রিকশাচালকদের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হয়েছে।
গত এক দশক থেকে সাইকেল রিকশায় ব্যাটারি সংযোজন করা হয়েছে এবং দেশটির বিভিন্ন স্থানে এ জাতীয় রিকশার প্রচলন দেখা যায়। এ ধরনের রিকশায় চালক শুধু হ্যান্ডল ধরে বসে থাকেন। রিকশায় সংযুক্ত বিশেষ মটর রিকশাকে টেনে নিয়ে যায়। বাংলাদেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী রিকশার ওপর নির্ভরশীল।
২০০৫ সালের দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার এসব রিকশাকে অমানবিক বলে তা নিষিদ্ধের প্রস্তাব আনে। বিলটি পাশ হলেও বিলটির বিরুদ্ধে পিটিশন হওয়ায় তা এখনও কার্যকর হয়নি। বর্তমানে এই বিলটি সংশোধনের কাজ চলছে।
এখনও রিকশা প্রসঙ্গ এলেই ঢাকা শহর আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী কাঠামোর কারণে ঢাকাকে বিশ্বের রিকশার নগরী বলা হয়।
গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস ২০১৪ সালের ২২ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকাকে রিকশার নগরী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে এককভাবে বাংলাদেশেই এই রিকশা অন্য যেকোনো বাহনের তুলনায় স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, যা এখন ঐতিহ্যের অংশ।
রিকশাচিত্রের ইতিহাস
ইতিহাসবিদরা বলেন, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের আগে ঢাকায় রিকশা ও রিকশাচিত্রের প্রচলন হয়। বিষয়বস্তু ও চিত্রের ধরন বিবেচনায় নিলে সে সময়কার সিনেমার পোস্টারের সঙ্গে এর সাদৃশ্য পাওয়া যায়। ১৯৪১ এবং ১৯৪৭ সালে ঢাকা শহরে রিকশার সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৩৭ এবং ১৮১। ১৯৯৮ সালে ঢাকায় নিবন্ধিত রিকশার সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যায় (সূত্র: বাংলাপিডিয়া)।
রিকশার জনপ্রিয়তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে রিকশাচিত্রের জনপ্রিয়তাও। মূলত অপ্রাতিষ্ঠানিক শিল্পীদের হাতেই এই শিল্পের হাতেখড়ি। স্বাধীনতার পর পাকিস্তানি বাহিনীর নারকীয় গণহত্যা ও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বীরদের ছবি রিকশাচিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন শিল্পীরা। সত্তরের দশকে মাঝামাঝিতে এসে সিনেমার তারকা ও সাধারণ মানুষের ছবি রিকশাচিত্রে স্থান পেতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় রিকশার গায়ে কাল্পনিক প্রাণীর ছবিও আঁকতে শুরু করেন চিত্রশিল্পীরা। এটি ছিল রিকশাচিত্রের জন্য এক উল্লেখযোগ্য মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা।
আশির দশকের শুরুতে সিনেমার তারকারা আবারও রিকশাচিত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে স্থান পেতে শুরু করেন। তারকাদের সানগøাস পরা ছবি, আইকনিক চুল, লাল টকটকে গাল এবং বিশাল চোখ দর্শকদের মোহিত করত! রিকশাচিত্রে সিনেমার তারকাদের প্রাধান্য থাকলেও বড় বড় শহরের রিকশায় তাজমহল, প্রাণী, ফুলেল নকশা, ধর্মীয় বিষয়াদি, গ্রামীণ পটভ‚মি এমনকি উড়োজাহাজের চিত্রও নিয়মিতই দেখা যেত।
ফ্যাশনেও রিকশাচিত্র
রিকশাচিত্র শুধু রিকশার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, ফ্যাশনের জগতেও এর উল্লেখযোগ্য ছাপ রয়েছে। বহু বছর ধরে শহরবাসীর মন জয় করতে পারলেও দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত আসবাবপত্রে রিকশাচিত্রের ব্যবহার শুরু হয় ২০০০ এর দশক থেকে। নতুন শতকের প্রথম থেকেই জামা কাপড়ে রিকশাচিত্রের ব্যবহার জনপ্রিয় ও নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ড হিসেবে চালু হয়। আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকেও রিকশাচিত্রের ব্যবহার শুরু হয় তখন থেকেই।
রিকশাচিত্রে সাধারণত গাঢ় রং ব্যবহার করে ফুল, পাখি এবং প্রকৃতির অন্যান্য উপাদান আঁকা হয়। হলুদ, লাল, নীল ও সবুজ রঙের সমন্বয়ে আঁকা চিত্রগুলো রিকশাচিত্রের মূল প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে, যা বাংলাদেশিদের অত্যন্ত পছন্দ।
বর্তমানে শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, কুর্তিসহ অন্যান্য পোশাকে রিকশাচিত্রের দেখা মেলে। আড়ং, চন্দন, যাত্রাসহ স্থানীয় ফ্যাশন হাউজগুলোর সৌজন্যে ফ্যাশন জগতে রিকশাচিত্র এখন বিখ্যাত নকশায় পরিণত হয়েছে।
রিকশাচিত্র আঁকা গৃহসজ্জার বিভিন্ন আসবাব শহরের বিভিন্ন দোকানেই পাওয়া যায়। ফুলের নকশা বা শহরের দৃশ্য আঁকা কুশন কভার খুব সহজেই আপনার বাড়ির চেহারা বদলে দিতে পারে। দুপুর বা বিকেলে যেখানটায় বসে চা পান করেন, সেখানেও রিকশাচিত্র নান্দনিকতা যোগ করতে পারে।
আশির দশক থেকেই শিল্পপ্রেমীরা দেয়ালে টানানোর জন্য রিকশাচিত্র সংগ্রহ করতেন। তবে এখন অনেকেই বাসার আসবাবেও রিকশাচিত্রকে স্থান দিচ্ছেন। আপনি শিল্প অনুরাগী হয়ে থাকলে বাসার দেয়ালেও রিকশাচিত্রের মতো নকশা করতে পারেন।
বছরের পর বছর ধরে রিকশাচিত্রে শুধু আমাদের চলচ্চিত্র জগতের তারকা, ফুল, পাখি ও প্রকৃতিই স্থান পায়নি, আমাদের রাজনৈতিক ও সাস্কৃতিক পটপরিবর্তনের সাক্ষীও এটি। রিকশাচিত্রে আমাদের দেশের মানুষের কথা বলে, এই অনন্য শিল্পটি সম্পূর্ণভাবেই আমাদের।
কেমন আছেন রিকশাচিত্রীরা
শিল্পধারা হিসেবে রিকশাচিত্র ক্রমেই ক্ষয়িষ্ণু। ঢাকায় চলতি বছর পর্যন্ত আনুমানিক ১০ জন সক্রিয় রিকশাচিত্রী আছেন। এ ছাড়া রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, খুলনা, পাবনা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ইত্যাদি শহরে কাজ করেন আরও কিছু রিকশাচিত্রী। হাতে আঁকা প্লেটের বিকল্প হিসেবে ডিজিটাল প্রিন্টের ব্যাপক ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে এই বিশেষ রীতির চিত্রকলা আজ হুমকির সম্মুখীন। ইতোমধ্যে বেশির ভাগ রিকশাচিত্রী পেশা পরিবর্তন করেছেন বা বিকল্প কাজ খুঁজে নিয়েছেন। ঢাকায় যাঁরা এখনো সক্রিয়, তারা মূলত বিদেশি ক্রেতাদের ওপর নির্ভরশীল। বিদেশিদের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রামীণ দৃশ্য-ধান ভানা, উঠানে বিশ্রাম নেওয়া, নদীতীরে সূর্যাস্ত ইত্যাদির পাশাপাশি সিনেমার পোস্টারের অনুকরণে আঁকা ছবিতে ক্রেতাদের চেহারার আদল ফুটিয়ে তোলা হয় এসব ছবিতে।

বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেল ‘ইফতার’
রমজান মাসের ইফতারকে ‘অনন্য বিশ্ব ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। ৬ ডিসেম্বর নিজেদের ওয়েবসাইটে এ স্বীকৃতির কথা জানায় সংস্থাটি।
ইফতারকে ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিতে ইউনেস্কোর কাছে যৌথভাবে আবেদন করেছিল ইরান, তুরস্ক, আজারবাইজান ও উজবেকিস্তান। এ নিয়ে ৪ ডিসেম্বর থেকে বৈঠক করেছে ইউনেসকোর একটি আন্তদেশীয় কমিটি। বৈঠকে ইফতারকে ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ইফতার নিয়ে ইউনেস্কো বলেছে, পবিত্র রমজানে মাগরিবের আজানের পর ইফতার করা হয়। মুসলমানেরা একত্র হয়ে ইফতার করেন। এতে পারিবারিক ও সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি মজবুত হয়। এ ছাড়া ইফতারের মাধ্যমে একাত্মতা, উদারতা ও সামাজিক যোগাযোগ বাড়ে।
জাতিসংঘের সংস্থাটি বলেছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইফতারের খাবারের ধরন ভিন্ন। অনেক দেশে শুধু চা, দুধ ও খেজুর খেয়েই ইফতার সারা হয়। আবার অনেক দেশে এটি ঘিরে করা হয় বিশাল আয়োজন। আর ইফতারের খাবার বানাতে শুধু প্রবীণেরাই নন, প্রায়ই হাত লাগান পরিবারের তরুণ সদস্য, এমনকি শিশুরাও।

 

Tags: Dhakaইউনেস্কোবাংলাদেশরিকশারিকশাচিত্র
ShareTweet
Previous Post

মানিকছড়িতে ক্লাইম্বিং ওয়াল পাহাড়ের পর্যটনে নতুন মাত্রা

Next Post

মালয়েশিয়ায় যেতে চীনা ও ভারতীয়দের লাগবে না ভিসা

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • Trending
  • Comments
  • Latest
রাজশাহী জেলার দর্শনীয় ২১ স্থানে যেভাবে যাবেন ও থাকবেন

রাজশাহী জেলার দর্শনীয় ২১ স্থানে যেভাবে যাবেন ও থাকবেন

August 21, 2026
সিলেট শহরের দর্শনীয় যতো স্থান

সিলেট শহরের দর্শনীয় যতো স্থান

April 20, 2026
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী খাবার

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী খাবার

May 31, 2024
চট্টগ্রামে পর্যটকদের জন্য চালু হলো বিশেষ বাস

চট্টগ্রামে পর্যটকদের জন্য চালু হলো বিশেষ বাস

May 13, 2024

বাংলাদেশ নামে হিমালয়ের শৃঙ্গ

0
লালবাগ কেল্লায় লাইট এন্ড সাউন্ড শো

লালবাগ কেল্লায় লাইট এন্ড সাউন্ড শো

0
ল্যান্ড অফ দি পিসফুল থান্ডার

ল্যান্ড অফ দি পিসফুল থান্ডার

0
বাংলাদেশ নামে হিমালয়ের শৃঙ্গ

বাংলাদেশ নামে হিমালয়ের শৃঙ্গ

0
সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন: সংরক্ষণ, জীবিকা ও উন্নয়নের সমন্বিত পথ

সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন: সংরক্ষণ, জীবিকা ও উন্নয়নের সমন্বিত পথ

October 8, 2026
ঢাকায় বসছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬

ঢাকায় বসছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬

September 17, 2026
বিদেশমুখী হচ্ছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা

বিদেশমুখী হচ্ছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা

September 2, 2026
বিমানে নির্দিষ্ট সময়ে খাবার পরিবেশন হয় কেন

বিমানে নির্দিষ্ট সময়ে খাবার পরিবেশন হয় কেন

August 26, 2026

Recent News

সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন: সংরক্ষণ, জীবিকা ও উন্নয়নের সমন্বিত পথ

সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন: সংরক্ষণ, জীবিকা ও উন্নয়নের সমন্বিত পথ

October 8, 2026
ঢাকায় বসছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬

ঢাকায় বসছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬

September 17, 2026
বিদেশমুখী হচ্ছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা

বিদেশমুখী হচ্ছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা

September 2, 2026
বিমানে নির্দিষ্ট সময়ে খাবার পরিবেশন হয় কেন

বিমানে নির্দিষ্ট সময়ে খাবার পরিবেশন হয় কেন

August 26, 2026

পর্যটন বিচিত্রা

ভ্রমণ বিষয়ক পত্রিকা ।
বেড়ানোর সকল খোঁজখবর ও পর্যটন সেবার যোগসুত্র পর্যটন বিচিত্রা।
কোথায় যাবেন? কীভাবে যাবেন? কোথায় থাকবেন? কি দেখবেন? কখন দেখবেন? এসবের সহজ সমীকরণ পর্যটন বিচিত্রা।
পড়তে পড়তে গন্তব্যে …

পর্যটন বিচিত্রা
প্রকাশক ও সম্পাদক : মহিউদ্দিন হেলাল

সম্পাদক কর্তৃক সম্পাদকীয় কার্যালয় থেকে প্রকাশিত।

নিবন্ধন সালঃ ২০০৫

আমাদের সাথে সংযুক্ত থাকুন

সর্বশেষ সংযোজন

পর্যটন সংবাদ

সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন: সংরক্ষণ, জীবিকা ও উন্নয়নের সমন্বিত পথ

October 8, 2026
পর্যটন সংবাদ

ঢাকায় বসছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬

September 17, 2026
আন্তর্জাতিক

বিদেশমুখী হচ্ছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা

September 2, 2026

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

বাড়ি -৯৭/১,  ফ্লাট– ২/বি, শুক্রাবাদ,
ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৭

ফোন: +৮৮-০২-২২২২৪২৯৪৪, ০১৯৭০০০৪৪৪৭
ইমেইল: [email protected]

পর্যটন বিচিত্রার অন্যান্য উদ্যোগ

© সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি ও ভিডিও অনুমতি ব্যতিরেকে প্রকাশ বা ব্যবহার করা বেআইনি।

No Result
View All Result
  • #2302 (no title)
  • 404 Page Not Found
  • Bangladesh youth Tourism Fest
  • Video
  • ট্রাভেল সপ
  • পড়তে পড়তে গন্তব্যে…
  • পর্যটন ব্লগ