■ পর্যটন বিচিত্রা ডেস্ক
পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। ঈদের এই ছুটিতে অন্তত সাড়ে তিন লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটেছে পর্যটন নগরীটিতে।
কক্সবাজার আবাসিক হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম জানান, গত তিন দিনে অন্তত সাড়ে তিন লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছেন। মঙ্গলবার থেকে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে আগামী শুক্রবার (২৭ মার্চ) পর্যন্ত কমবেশি পর্যটকের উপস্থিতি থাকবে বলে আশা করছেন তিনি।
এদিকে, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, ছুটি শেষ হলেও এখনো পর্যটকের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। গত রোববার (২২ মার্চ) থেকে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) পর্যন্ত এই তিন দিনে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় ছিল।
সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত পর্যটকরা নিজেদের মতো করে সময় উপভোগ করছেন। বিস্তীর্ণ বালিয়াড়িতে ঘোরাঘুরির পাশাপাশি কেউ কেউ বিচবাইক, ঘোড়া ও জেটস্কিতে চড়ে আনন্দে মেতেছেন। অনেকেই কিটকটে (চেয়ার) বসে সাগরের হিমেল হাওয়া উপভোগ করছেন। কেউ আবার ব্যস্ত নিজেদের ভ্রমণের স্মৃতি ক্যামেরাবন্দি করতে। তবে অধিকাংশ পর্যটককেই সাগরের লোনাজলে গা ভাসিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রায়হানুর রহমান বলেন, ‘ঈদের পরের দিন রোববার (২২ মার্চ) কক্সবাজারে আসি। আজ (মঙ্গলবার) রাতে ফিরে যাব। এখানে এসে দেখি সাগরতীরে পা ফেলার জায়গা নেই। এত মানুষ, এত হৈ-হুল্লোড় আগে দেখিনি। বিপুল সংখ্যক মানুষের এই আনন্দ দেখে আমারও খুব ভালো লাগছে।’
ঈদের ছুটিতে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের সমাগম হলেও সমুদ্রস্নানে নেমে কোনো অঘটনের খবর পাওয়া যায়নি। সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার প্রজেক্ট কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘প্রতিদিন লাখো পর্যটকের সমুদ্রস্নানে নিরাপত্তা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। কারণ, বিপুল সংখ্যক এই পর্যটকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন মাত্র ২৭ জন কর্মী। তারপরও আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিল। পর্যটকদের নির্বিঘ্নে সমুদ্রস্নানের নিরাপত্তা দিতে পেরেই আমরা খুশি।’
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সৈকতের বালিয়াড়ি থেকে শুরু করে হোটেল-মোটেল জোন ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’












