■ পর্যটন বিচিত্রা প্রতিবেদন
রাঙামাটির বাঘাইছড়ির জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ মেঘছোঁয়া সাজেক ভ্যালি। এখানকার পাহাড়, নদী ও ঝরনাঘেরা পর্যটন রিসোর্টগুলো ছাড়াও পর্যটকদের ভ্রমণ তালিকায় এখন খাগড়াছড়ির নানা স্থানও যুক্ত হচ্ছে। এবারের ঈদেও জেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ঢল নেমেছিল পর্যটকদের।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরের দুদিন খাগড়াছড়ির কোনো হোটেল–মোটেল খালি ছিল না। আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র, হর্টিকালচার পার্ক, দেবতা পুকুর, মায়াবিনী লেক, পানছড়ি শান্তিপুর অরণ্য কুটিরসহ সব পর্যটনকেন্দ্র ছিল লোকে লোকারণ্য। পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করতে এসব স্পটও নতুনভাবে সাজানো হয়। পাহাড়ি ঐতিহ্যে সাজানো রেস্তোরাঁগুলোতেও ভিড় দেখা গেছে। এ ছাড়া পিকআপ, জিপসহ অন্য পর্যটকবাহী যানবাহনে ছিল শতভাগ বুকিং।
খাগড়াছড়ির যানবাহন মালিক সমিতির (চাঁদের গাড়ি) লাইনম্যান সৈকত চাকমা বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে গতকাল সোমবার পর্যন্ত আমাদের সমিতির সব গাড়ির বুকিং ছিল। আজ ও আগামীকাল শতভাগ বুকিং হয়নি। তবে ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত শতভাগ বুকিং আছে। গত দুই দিন অনেক পর্যটক গাড়ি না পেয়ে বিকল্প প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে সাজেকসহ বিভিন্ন গন্তব্যে গেছেন।’
গত দুদিন খাগড়াছড়ির গাইরিং হোটেলের সব কক্ষে বুকিং ছিল বলে জানান হোটেলের ব্যবস্থাপক প্রান্ত ত্রিপুরা। তিনি বলেন, হোটেলের সব কক্ষ বুকিং ছিল। কক্ষ খালি না থাকায় অনেক পর্যটককে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন দিনের বন্ধেও ৮০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। ঈদের পরদিন থেকেই খাগড়াছড়ির পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়ছে। পর্যটক আসায় খুশি রেস্তোরাঁর মালিকেরাও। আর পর্যটকদের নিরাপত্তায় নজরদারি বাড়িয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশও।
ট্যুরিস্ট পুলিশের উপরিদর্শক নিশাত রায় বলেন, ঈদ উপলক্ষে কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নিরাপত্তা বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ সব জায়গায় ২৪ ঘণ্টা টহলে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। দুর্গম এলাকায় গিয়ে পর্যটকেরা বিপদে পড়লেও উদ্ধারে প্রস্তুত আছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। সে ক্ষেত্রে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন করে সাহায্য চাইতে হবে।












