পর্যটন বিচিত্রা ডেস্ক
১৯৯৬ সালে লাউয়াছড়া বনাঞ্চলকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর গাছের কাণ্ডগুলো ডালপালাবিহীনভাবে বেশ উঁচু হয়ে ওঠে। এটি রেইন ফরেস্টগুলোর মধ্যে অন্যতম।
প্রকৃতির অপার নীরবতা, হরেক প্রজাতির পাখির কলকাকলি আর উঁচু-নিচু পাহাড়ের বুক চিরে চলে যাওয়া রেললাইন—বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এ দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ চিরহরিৎ বনাঞ্চল ‘লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান’-এর ছবি। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করে বুকভরে নিশ্বাস নিতে এবং বন্যপ্রাণীর মায়াবী জগতের সন্ধান পেতে পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের শীর্ষ তালিকায় রয়েছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত এই রেইনফরেস্ট।
এ বনে প্রায় ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী ও ২৪৬ প্রজাতির পাখি রয়েছে। বিশাল কয়েকটি পাহাড় এই বনকে ঘিরে আছে। বনের ভেতরে পায়ে চলার ৩টি পথ রয়েছে। দেশের ১৭টি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে এটি প্রাচীনতম।
নিসর্গ ও জীববৈচিত্র্যপূর্ণ এ বনাঞ্চলে রয়েছে নানারকম গাছপালা, লতাগুল্ম ছাড়াও লজ্জাবতী বানর, উল্লুক, হনুমান, বনমোরগ, চিতাবাঘ, কুলু বানরসহ বেশ কিছু বিরল প্রজাতির পশুপাখি। এ বনের আরেকটি অন্যতম আকর্ষণ লাউয়াছড়া খাল।
লাউয়াছড়ার প্রধান আকর্ষণগুলোর একটি হলো বনের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া আঁকাবাঁকা ঢাকা-সিলেট রেলপথ। দুপাশে ঘন বাঁশঝাড় আর প্রকাণ্ড সব গাছের মাঝখান দিয়ে যখন ট্রেন চলে যায়, তখন তৈরি হয় এক অসাধারণ অপার্থিব দৃশ্য। তবে বনের ভেতরের সরু ক্যানেল বা ট্রেইল ধরে হেঁটে চলার রোমাঞ্চ একদমই অন্যরকম। ছোট, মাঝারি ও দীর্ঘ—এই তিন ধরণের ট্রেইল ধরে পর্যটকরা গাইডের সহায়তায় বনের গহীনে নিরাপদ ট্র্যাকিং উপভোগ করতে পারেন।
ভ্রমণের উপযুক্ত সময়: লাউয়াছড়া বছরের যেকোনো সময়ই তার রূপের জাদু ছড়ায়। তবে বর্ষায় এই বনের সবুজ রূপ যেন আরও গাঢ় ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। আর শীতের সকালে কুয়াশার চাদরে মোড়ানো বনের শান্ত পরিবেশ ভ্রমণপিপাসুদের এক অন্য জগতে নিয়ে যায়।
কীভাবে যাবেন ও কোথায় থাকবেন: ঢাকা বা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে শ্রীমঙ্গল বা কমলগঞ্জে ট্রেন কিংবা বাসে সরাসরি আসা যায়। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে লোকাল অটো, জিপ বা সিএনজি চালিত অটোরিকশা নিয়ে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে। থাকার জন্য শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ এলাকায় রয়েছে নান্দনিক সব ইকো রিসোর্ট, হোটেল ও কটেজ।












