■ পর্যটন বিচিত্রা প্রতিবেদন
ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি সিলেট জেলার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থান। এটি সিলেট শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে, সীমান্তঘেঁষা ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সাথেও এর সংযোগ রয়েছে। এখানে সাদা নীল পানি, বিশালাকার পাথরের স্তূপ, এবং সবুজ পাহাড় ঘেরা পরিবেশ একে অনেকটা স্বর্গীয় করে তোলে। এটি সিলেটের একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পট। পাহাড়ের ওপারেই ভারতের চেরাপুঞ্জি ও শিলং রাজ্য।
কাচের মতো স্বচ্ছ জলরাশি, জলের বুকে সবুজ পাহাড়ের ছায়া, ছোটো-বড়ো পাথরের স্তূপ- সব মিলিয়ে ভোলাগঞ্জের সৌন্দর্য অতুলনীয়। এখানে নদীর বুকে নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো আর পাথর উত্তোলনের কর্মকাণ্ড অবলোকন করা যায়।
খাসিয়া-জৈন্তিয়া পাহাড় থেকে নেমে আসা রূপালী পানির স্রোত, চারপাশে উঁচু সবুজ পাহাড় আর নদীবক্ষে ছড়িয়ে থাকা শত শত সাদা পাথর সব মিলিয়ে ভোলাগঞ্জের পরিবেশ এক অদ্ভুত রূপকথার জন্ম দেয়। স্বচ্ছ নীল ও হিমশীতল পানি যখন নদীর ওপর ছড়িয়ে থাকা সাদা পাথরের ওপর দিয়ে ধাবিত হয়, তখন যে সুরের ঝংকার ওঠে, তা মুহূর্তেই দূর করে দেয় নগরের সব ক্লান্তি। এই নদীটির নাম ধলাই। পাহাড় ও পাথরের মিতালীতে তৈরি এই ধলাই নদীর পানির বর্ণহীনতা এতই স্বচ্ছ যে, তলদেশের প্রতিচ্ছবি সহজেই দৃশ্যমান হয়।
বহু বছর ধরে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ভোলাগঞ্জ কোয়ারি ছিল জীবন-জীবিকার মূল উৎস। এখান থেকে পাথর সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে পাঠানো হতো। তবে যান্ত্রিক উপায়ে অতিরিক্ত পাথর উত্তোলন ও পরিবেশগত হুমকির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। বর্তমানে সরকারি নজরদারি বাড়ায় এবং পরিবেশ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় ভোলাগঞ্জের মূল পরিচিতি ধীরে ধীরে শ্রমশিল্প থেকে পরিবর্তিত হয়ে ট্রাভেল ও ইকো-ট্যুরিজমের শক্ত কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এখন পর্যটন শিল্পের সাথে যুক্ত হয়ে বিকল্প আয়ের পথ খুঁজে পাচ্ছেন।
সবুজ পাহাড়, হিমশীতল নদী আর শুভ্র পাথরের মেলবন্ধনে ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি কেবল একটি প্রাকৃতিক সম্পদ ক্ষেত্রই নয়, এটি বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের এক অনন্য রত্ন। প্রকৃতির এই অমূল্য সৌন্দর্য রক্ষায় পর্যটকদের সচেতনতা ও পলিথিন-মুক্ত ভ্রমণ অত্যন্ত জরুরি।












