মহিউদ্দিন হেলাল (সম্পাদক, পর্যটন বিচিত্রা)
পর্যটন গন্তব্য, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নতুন বিনিয়োগ যখন বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বাধাগ্রস্ত হয়, তখন প্রশ্ন ওঠে- বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের অভিভাবক কে? পরিবেশ সংরক্ষণ, আইন প্রয়োগ ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার?
পর্যটন গন্তব্যের উন্নয়ন, গন্তব্য ব্যবস্থাপনা, পর্যটন ব্যবসার প্রসার, নিয়ন্ত্রণ, পর্যটন শিল্পের মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা কী? সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার সিদ্ধান্তে পর্যটন খাতের স্বার্থ কতটা বিবেচিত হচ্ছে?
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে পর্যটন উন্নয়ন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ বাস্তবে সমন্বয়হীনতা ও প্রশাসনিক জটিলতা এসব লক্ষ্য অর্জনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালে তরুণ উদ্যোক্তাদের স্বপ্ন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
সুন্দরবন: পরিবেশ সংরক্ষণ, নাকি বিকল্প জীবিকার পথ বন্ধ?
সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনার দাকোপ উপজেলার বানীশান্তা ও লাউডোব এলাকায় গড়ে ওঠা প্রায় ১৮টি কমিউনিটিভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম উদ্যোগ ও রিসোর্ট নিয়ে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সুন্দরবন সংরক্ষিত বন এবং এর সীমানার চারপাশে ১০ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকাকে সরকার পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA) হিসেবে ঘোষণা করেছে। ঘোষিত ইসিএ এলাকায় সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে নির্দিষ্ট কিছু কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) ও ইসিএ বিধিমালা, ২০১৬ অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা কার্যালয় থেকে এসব উদ্যোগ বন্ধ করে যাবতীয় স্থাপনা অপসারণের জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এখন প্রশ্ন হলো, যে অঞ্চলে রিসোর্টগুলো গড়ে উঠেছে, সেটি জনবসতিপূর্ণ গ্রামাঞ্চল। এই ১০ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি গ্রাম, বহু বাড়িঘর, সরকারি-বেসরকারি কংক্রিটের স্থাপনা ফ্যাক্টরি, কলকারখানা এবং লাখ-লাখ মানুষের বসবাস। তাহলে তাঁদের কী হবে? অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কি উচ্ছেদ হয়েছে?
পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কিন্তু এসব উদ্যোগের পরিবেশগত প্রভাব, স্থানীয় মানুষের জীবিকা এবং দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ বিবেচনায় নিয়েই কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে?
প্রায় এক দশক ধরে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা এসব উদ্যোগের পেছনে রয়েছে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বিকল্প জীবিকার সুযোগ করে দেওয়ার প্রচেষ্টা। প্রাথমিক পর্যায়ে রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল ১০টি কটেজ নির্মাণের মাধ্যমে এ ধরনের উদ্যোগের সূচনা করে। পরবর্তী সময়ে USAID-ও সুন্দরবনসংলগ্ন জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে টেকসই পর্যটনের বিকাশে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। সে সময় বন বিভাগও উন্নয়ন সহযোগীদের উদ্যোগে সহায়তা করেছিল বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য।
এই ধারাবাহিকতায় তরুণ উদ্যোক্তারা ধীরে ধীরে এলাকায় পরিবেশবান্ধব রিসোর্ট গড়ে তোলেন। এসব উদ্যোগের সম্মিলিত অবকাঠামোতে প্রায় ১১৭টি কক্ষ রয়েছে, যেখানে আনুমানিক ৫৬০ জন পর্যটকের আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রায় ১০০ জন তরুণ উদ্যোক্তার বিনিয়োগে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানে ২০০-এর বেশি স্থানীয় মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
এর অর্থনৈতিক প্রভাব শুধু রিসোর্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় যুবরা পর্যটক গাইড ও নৌকার মাঝি হিসেবে কাজ করছেন। তাঁদের মালিকানায় রিসোর্ট এলাকায় গড়ে উঠেছে বিভিন্ন পণ্যের দোকান। রিসোর্টের জন্য হাঁস-মুরগি, শাকসবজি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর বড় অংশ আসে আশপাশের গ্রাম থেকে। স্থানীয় নারীরা সেলাইয়ের মাধ্যমে হস্তশিল্প তৈরি করে পর্যটকদের কাছে বিক্রি করছেন। গড়ে উঠেছে স্থানীয় সাংস্কৃতিক দল, যারা পালাগান ও পুঁথিপাঠের মাধ্যমে সুন্দরবন, প্রকৃতি ও স্থানীয় ঐতিহ্যের গল্প তুলে ধরছে।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো-যেসব মানুষ একসময় মাছ ধরা, গাছ কাটা, হরিণ শিকার ও মধু সংগ্রহের মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং যাঁদের একটি অংশের জীবিকা সুন্দরবনের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করত, তাঁদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে সেটিকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে?
সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্থানীয় মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের বিকল্প তৈরি করা টেকসই বন সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। সে বিবেচনায় এসব রিসোর্টের পরিবেশগত প্রভাব যেমন বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন, তেমনি বন সংরক্ষণে বিকল্প জীবিকা সৃষ্টিতে তাদের সম্ভাব্য অবদানও মূল্যায়ন করা জরুরি।
প্রশ্ন হলো, রিসোর্টগুলো বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার আগে কি প্রতিটির পরিবেশগত প্রভাব যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে? কোথাও পরিবেশগত অনিয়ম থাকলে তার সুনির্দিষ্ট বিবরণ দিয়ে পরিবেশগত ক্ষতি কমিয়ে পরিচালনার সুযোগ কি বিবেচনা করা হয়েছে?
যদি এসব উদ্যোগ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হয়, তাহলে সেই ক্ষতির ধরন ও মাত্রা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। আবার যদি কোনো উদ্যোগ সংশোধন, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো বা ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে পরিচালনাযোগ্য হয়, তাহলে সরাসরি বন্ধের পরিবর্তে সেই পথ বিবেচনা করা উচিত নয় কি?
প্রাথমিক পর্যায়ে উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় কটেজ নির্মাণ এবং পরবর্তী সময়ে বহু উদ্যোগ গড়ে ওঠার সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও তদারকির ধারাবাহিকতাও তা পর্যালোচনার দাবি রাখে। এখন হঠাৎ করে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলে এত দিনের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতির ক্ষতির দায় কে নেবে?
পর্যটন গন্তব্যের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?
সুন্দরবন ছাড়াও দেশের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যে উন্নয়ন, নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে।
সেন্টমার্টিন: পর্যটন মৌসুমে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা পর্যটক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে উদ্বেগে ফেলছে। দ্বীপের পরিবেশগত সীমাবদ্ধতা ও ধারণক্ষমতা বিবেচনায় রেখে পর্যটন পরিচালনার বিষয়ে সময়োপযোগী ও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। তবে সিদ্ধান্তটি কে নেবে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হবে এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট মানুষের স্বার্থ কীভাবে বিবেচিত হবে-সেসব প্রশ্নেরও উত্তর থাকা জরুরি।
বান্দরবান ও থানচি: নিরাপত্তা পরিস্থিতি, চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন পর্যটকদের যাতায়াত ও স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা এবং স্থানীয় অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সাজেক: নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত পরিস্থিতিতে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ বা সীমিত করার সিদ্ধান্ত পর্যটক, পরিবহনকর্মী, হোটেল-রিসোর্টের মালিক এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িক বিধিনিষেধ প্রয়োজন হলে তা অবশ্যই বিবেচনাযোগ্য। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যটন পুনরায় চালুর সুস্পষ্ট পরিকল্পনাও থাকতে হবে।
পাহাড় থেকে সমুদ্র, হাওড় থেকে নদী, উপকূল থেকে ম্যানগ্রোভ বন-পর্যটন গন্তব্যগুলোর এসব চ্যালেঞ্জ একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আনে: পর্যটকের নিরাপত্তা, নির্বিঘ্ন যাতায়াত, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকা–এই চারটি বিষয়কে সমন্বিতভাবে দেখার দায়িত্ব কার?
উন্নয়নের ধারা অব্যহত রেখে করতে হবে নিয়ন্ত্রণ
পরিবেশ অধিদপ্তর পরিবেশ রক্ষা করবে, জেলা প্রশাসন আইন প্রয়োগ করবে এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে-এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এসব দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পর্যটন উন্নয়ন, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক স্বার্থের সমন্বয়ও জরুরি।
কোনো পর্যটন উদ্যোগে পরিবেশগত বা আইনগত অনিয়ম থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে বন্ধের নির্দেশ বা নিষেধাজ্ঞাই কি একমাত্র সমাধান? উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ, আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং উদ্যোক্তাদের জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন শুধু বেসরকারি উদ্যোক্তাদের দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্রীয় নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও জবাবদিহিরও বিষয়।
প্রশ্ন হলো, কোনো পর্যটন গন্তব্য বন্ধ হয়ে গেলে, উদ্যোক্তার বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়লে কিংবা স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কা তৈরি হতে পারে, এসব ক্ষেত্রে সকল অংশীজন প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সংকট সমাধানে তাদের দৃশ্যমান ভূমিকা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থা সিদ্ধান্ত নিলে পর্যটন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট পর্যটন সংস্থাগুলোর সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় থাকা উচিত, যাতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পর্যটন খাতের সামগ্রিক স্বার্থ, বিনিয়োগ এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকাও বিবেচনায় আসে।
নির্বাচনী অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন কোথায়?
পর্যটনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করা, স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি এবং দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব। বিশেষ করে কমিউনিটিভিত্তিক পর্যটন ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
কিন্তু উদ্যোক্তারা যদি দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তায় থাকেন, বিনিয়োগের আগে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা না পান এবং একাধিক সংস্থার সিদ্ধান্তের মধ্যে সমন্বয় না থাকে, তাহলে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হবে কীভাবে?
পর্যটন বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজন স্পষ্ট নীতিমালা, পূর্বানুমেয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, পরিবেশগত নির্দেশনা এবং কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তিব্যবস্থা। কোনো উদ্যোগে সমস্যা দেখা দিলে উদ্যোক্তাকে তা সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে, যেখানে আইন ও পরিবেশগত বিধান সেই সুযোগ অনুমোদন করে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে পর্যটনের সুফল প্রকৃত অর্থেই স্থানীয় মানুষের কাছে পৌঁছায়।
শিল্পটি তাহলে কার?
পর্যটন শিল্প দেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি, পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাময় খাত।
এই শিল্পের বিকাশে পরিবেশ সংরক্ষণ যেমন অপরিহার্য, তেমনি প্রয়োজন নিরাপদ পর্যটন, দায়িত্বশীল প্রশাসন, বিনিয়োগবান্ধব নীতি এবং স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার। একটি দিক রক্ষা করতে গিয়ে অন্য দিকগুলো উপেক্ষা করলে টেকসই পর্যটন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
কোনো সংকট দেখা দিলে শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি নয়, সমাধানের পথও খুঁজতে হবে। কোনো উদ্যোগ বন্ধ করতে হলে তার আইনগত ও পরিবেশগত ভিত্তি স্পষ্ট করতে হবে। পাশাপাশি, যেখানে সম্ভব, সংশোধনের সুযোগ, বিকল্প ব্যবস্থা এবং পুনরায় চালুর বাস্তবসম্মত পথও বিবেচনায় নিতে হবে।
পর্যটন শিল্পকে নিয়ন্ত্রণ করার কর্তৃপক্ষ একাধিক হতে পারে, কিন্তু এর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার দায়ভার এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কারও নেই।
তাই আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-
পর্যটন, তুমি কার? পর্যটন শিল্পের নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন ও জবাবদিহির দায়িত্ব কার?
রাষ্ট্র কি পর্যটন শিল্পকে একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক খাত হিসেবে গড়ে তুলতে চায়, নাকি সমন্বয়হীন সিদ্ধান্তের কারণে এর সম্ভাবনা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বারবার বাধাগ্রস্ত হতে থাকবে?
এখনই প্রয়োজন নীতিনির্ধারক ও উদ্যোক্তাদের সুস্পষ্ট অবস্থান, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং কার্যকর পদক্ষেপ-যাতে পরিবেশ রক্ষা পায়, পর্যটন বিকশিত হয়, বিনিয়োগ সুরক্ষিত থাকে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী উন্নয়নের প্রকৃত সুফল পায়।












