■ পর্যটন বিচিত্রা প্রতিবেদক
বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কেবল একটি যাতায়াত কেন্দ্রই নয়, বরং এটি দেশের বিমান চলাচল, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাব । প্রতিদিন হাজারো দেশি-বিদেশি যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করছেন। যাত্রীদের ভ্রমণকে আরও স্বাচ্ছন্দ্য, নিরাপদ ও মানসম্মত করতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন এয়ারলাইন্স-ব্যাংক যৌথভাবে গড়ে তুলেছে আধুনিক লাউঞ্জ সুবিধা।
বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাধারণ যাত্রীদের জন্য ৯টি আধুনিক লাউঞ্জ, বিশেষ ব্যক্তিদের জন্য ৩টি ভিআইপি লাউঞ্জ এবং বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য ১টি সিআইপি লাউঞ্জ চালু রয়েছে। এসব লাউঞ্জে আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা, খাবার ও পানীয়, উচ্চগতির ইন্টারনেট, নামাজের স্থান, ব্যবসায়িক কাজের সুবিধা থেকে শুরু করে প্রাইভেট ও নিরিবিলি পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষা কিংবা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের আগের সময়টুকু যাত্রীদের জন্য হয়ে উঠছে অনেক বেশি আরামদায়ক ও সম্মানজনক। নিচে প্রতিটি লাউঞ্জের বিস্তারিত সুবিধা তুলে ধরা হলো-
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মসলিন লাউঞ্জ
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনালে অবস্থিত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মসলিন লাউঞ্জ যাত্রীদের জন্য উন্নত আরামদায়ক সেবা প্রদান করছে। এই লাউঞ্জটি টার্মিনালের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত। বিশেষ করে বিমান বাংলাদেশের বিজনেস ক্লাস যাত্রী ও নির্ধারিত অতিথিদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্রামাগার হিসেবে কাজ করছে।
লাউঞ্জটিতে প্রবেশ করতে হলে ইমিগ্রেশনের পর হলের শেষ প্রান্তে গিয়ে সিঁড়ি দিয়ে দ্বিতীয় তলায় উঠতে হয় এবং বাম দিকে এগোলেই মসলিন লাউঞ্জের অবস্থান পাওয়া যায়। এখানে যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক বসার জায়গা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং শান্ত সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সংস্কার ও আধুনিকায়নের ফলে লাউঞ্জটির পরিবেশ আগের তুলনায় আরও মনোরম ও ব্যবহারবান্ধব হয়ে উঠেছে।
মসলিন লাউঞ্জে যাত্রীদের জন্য বুফে খাবারের ব্যবস্থা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের হালকা নাস্তা ও পানীয় পরিবেশন করা হয়। দীর্ঘ ভ্রমণের আগে বা ট্রানজিট সময় যাত্রীরা এখানে বসে স্বস্তিতে খাবার গ্রহণ করতে পারেন। পাশাপাশি লাউঞ্জে শাওয়ার ও আলাদা ওয়াশরুমের সুবিধা থাকায় যাত্রীরা ফ্রেশ হওয়ার সুযোগ পান, যা আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। এই লাউঞ্জে বিনামূল্যে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়া হয়, ফলে যাত্রীরা ফ্লাইটের অপেক্ষার সময় কাজ করতে বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন। এটি একটি নন-স্মোকিং লাউঞ্জ হওয়ায় স্বাস্থ্যসম্মত পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা হয়
প্রধানত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজনেস ক্লাস যাত্রীদের জন্য মসলিন লাউঞ্জ নির্ধারিত হলেও নির্দিষ্ট কিছু লাউঞ্জ মেম্বারশিপ ও ক্রেডিট কার্ডধারীরাও এখানে প্রবেশের সুযোগ পান। ফলে এটি শুধু প্রিমিয়াম যাত্রীদের জন্য নয়, বরং সীমিত পরিসরে অন্যান্য যোগ্য যাত্রীদের জন্যও সেবা প্রদান করছে। বিস্তারিত জানতে: +৮৮০১৮১৯-২২২৯৯৭
ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা বলাকা এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জ
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনালু১ এ অবস্থিত ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা বলাকা এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জ আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য উন্নত ও প্রিমিয়াম মানের সেবা প্রদান করছে । এই লাউঞ্জটি প্রতিদিন খোলা থাকে এবং রাত ১২টা পর্যন্ত যাত্রীদের সেবা দেয়। ইমিগ্রেশন ডেস্ক অতিক্রম করার পর ডান দিকে গিয়ে হলের শেষ চার্জিং ডক, বিজনেস সেন্টার, শিশু পরিচর্যার স্থান, নামাজের জায়গা এবং সংযুক্ত ওয়াশরুম সুবিধা রয়েছে। এছাড়া যাত্রীদের জন্য একটি মিনি লাইব্রেরি ও আমেরিরকান এক্সপ্রেস কার্ড সার্ভিস ডেস্ক চালু রয়েছে, যেখানে কার্ডসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা পাওয়া যায়। লাউঞ্জে প্রবেশের সময় কার্ডধারীদের অবশ্যই তাদের সিটি ব্যাংক আমেরিকান এক্সপ্রেস প্লাটিনাম ক্রেডিট কার্ড এবং বোর্ডিং পাস প্রদর্শন করতে হয়। লাউঞ্জ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তাবলি অনুসরণ করতে হয়। প্রাইমারি কার্ডধারী সর্বোচ্চ তিনজন অতিথি (প্রাপ্তবয়স্ক বা শিশু) এবং সাপ্লিমেন্টারি কার্ডধারী প্রাইমারি কার্ডধারী উপস্থিত না থাকলে সর্বোচ্চ দুইজন অতিথি সঙ্গে নিতে পারবেন। নির্ধারিত সংখ্যার অতিরিক্ত অতিথির জন্য আলাদা লাউঞ্জ ফি প্রযোজ্য হবে।
অন্যদিকে, সিটি ব্যাংক আমেরিকান এক্সপ্রেস গোল্ড লাউঞ্জ বাংলাদেশের প্রথম সত্যিকারের আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর লাউঞ্জ হিসেবে পরিচিত। এই লাউঞ্জে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা কর্তৃক পরিবেশিত বিনামূল্যের খাবার, উচ্চগতির ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট, ওয়াইডস্ক্রিন টেলিভিশন এবং কার্ডসংক্রান্ত কাস্টমার সিটি ব্যাংক আমেরিকান এক্সপ্রেস প্লাটিনাম ও সার্ভিস সুবিধা রয়েছে। লাউঞ্জ ব্যবহারের সময় গোল্ড লাউঞ্জ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য উন্নত ও আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে সিটি ব্যাংক আমেরিকান এক্সপ্রেস প্লাটিনাম লাউঞ্জ এবং সিটি ব্যাংক আমেরিকান এক্সপ্রেস গোল্ড লাউঞ্জ চালু রয়েছে। এসব লাউঞ্জ বিশেষভাবে সিটি ব্যাংক আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ডধারীদের জন্য নির্ধারিত; যেখানে যাত্রীরা ভ্রমণের আগে আরাম, খাবার ও বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা উপভোগ করতে পারেন।
সিটি ব্যাংক আমেরিকান এক্সপ্রেস প্লাটিনাম লাউঞ্জ শুধুমাত্র সিটি ব্যাংক আমেরিকান এক্সপ্রেস প্লাটিনাম কার্ডধারীদের জন্য উন্মুক্ত । এই লাউঞ্জে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা কর্তৃক পরিবেশিত খাবার ও পানীয়, প্রশস্ত বসার ব্যবস্থা, মোবাইল ও ল্যাপটপ
কার্ডধারীদের তাদের সিটি ব্যাংক আমেরিকান এক্সপ্রেস ক্রেডিট কার্ডও বোর্ডিং পাস প্রদর্শন করতে হয়।
গোল্ড লাউঞ্জ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন কার্ড ক্যাটাগরি অনুযায়ী আলাদা নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। সিটি ব্যাংক আমেরিকান এক্সপ্রেস গোল্ড ক্রেডিট কার্ড-এর প্রাইমারি কার্ডধারীরা একজন সঙ্গী ও ১২ বছরের নিচে সর্বোচ্চ দুই সন্তানসহ বিনামূল্যে লাউঞ্জ ব্যবহার করতে পারবেন। সাপ্লিমেন্টারি কার্ডধারীরা প্রাইমারি কার্ডধারী ছাড়া লাউঞ্জে এলে তারাও সর্বোচ্চ দুই সন্তানসহ বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবেন । প্রাইমারি ও সাপ্লিমেন্টারি কার্ডধারীরা বছরে সর্বোচ্চ পাঁচবার বিনামূল্যে এই লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন, এরপর থেকে নির্ধারিত ফি প্রযোজ্য হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ডধারীরা বছরে সর্বোচ্চ পাঁচবার বিনামূল্যে এই লাউঞ্জ ব্যবহার করতে পারবেন। ষষ্ঠবার থেকে লাউঞ্জ ব্যবহারে ফি প্রযোজ্য হবে এবং সাপ্লিমেন্টারি কার্ডধারী বা অতিরিক্ত অতিথির জন্য আলাদা চার্জ দিতে হবে। সিটি ব্যাংক আমেরিকান এক্সপ্রেস কর্পোরেট কার্ড-এর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কার্ডধারী নিজে বিনামূল্যে লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন । এছাড়া সিটি আলো আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ড-এর প্রাইমারি কার্ডধারীরা একজন সঙ্গী ও দুই সন্তানসহ বছরে সর্বোচ্চ পাঁচবার লাউঞ্জ ব্যবহারে ৫০ শতাংশ ছাড় পাবেন। পাঁচবারের বেশি ব্যবহার বা অতিরিক্ত অতিথির ক্ষেত্রে নিয়মিত লাউঞ্জ ফি প্রযোজ্য হবে বিমান বাংলাদেশ আমেরিকান এক্সপ্রেস ক্রেডিট কার্ড- এর প্রাইমারি কার্ডধারীরা একজন সঙ্গী ও ১২ বছরের নিচে সর্বোচ্চ দুই সন্তানসহ বছরে তিনবার বিনামূল্যে লাউঞ্জ ব্যবহার করতে পারবেন। সাপ্লিমেন্টারি কার্ডধারীর ক্ষেত্রেও একই সুবিধা প্রযোজ্য থাকবে। চতুর্থবার থেকে নির্ধারিত লাউঞ্জ ফি দিতে হবে। এই দুটি লাউঞ্জ চালুর মাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। আরামদায়ক পরিবেশ, মানসম্মত খাবার, ইন্টারনেট সুবিধা এবং বিশেষ সেবার কারণে যাত্রীরা ফ্লাইটের আগে স্বস্তিতে সময় কাটাতে পারছেন । এতে সাধারণ অপেক্ষাকক্ষের তুলনায় যাত্রীদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা অনেক বেশি আরামদায়ক ও আনন্দদায়ক হয়ে উঠছে।
বিস্তারিত জানতে: ১৬২৩৪, +৮৮০২৮৩৩১০৪০
প্রান্তের সিঁড়ি বেয়ে দ্বিতীয় তলায় উঠলে বাম পাশে অবস্থিত এই লাউঞ্জটির অবস্থান পাওয়া যায়। এই লাউঞ্জে প্রবেশাধিকার শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রাকারী যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত। একবার প্রবেশ করলে সর্বোচ্চ চার ঘণ্টা পর্যন্ত অবস্থানের সুযোগ রয়েছে। শিশুদের ক্ষেত্রে দুই বছরের নিচে বয়সী শিশুরা প্রাপ্তবয়স্ক অভিভাবকের সঙ্গে বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারে। তবে লাউঞ্জে প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে জায়গার প্রাপ্যতার ওপর নির্ভরশীল।
বলাকা এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জ-এ যাত্রীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে । এখানে রয়েছে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট, ইন্টারনেট টার্মিনাল, টিভি ও ফ্লাইট মনিটর, আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা এবং প্রিমিয়াম মানের খাবার পরিবেশনের সুবিধা। এ ছাড়া আলাদা ধূমপান কক্ষ (স্মোকিং এরিয়া) রাখা হয়েছে, যাতে ধূমপায়ী ও অধূমপায়ী যাত্রীদের জন্য পৃথক পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
এই লাউঞ্জে কনফারেন্স রুমের ব্যবস্থাও রয়েছে, যা অতিরিক্ত ফি দিয়ে আগাম বুকিংয়ের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়। ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি দূরবর্তী টেলিফোন কল ও ফ্যাক্স সেবাও অতিরিক্ত চার্জের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়। লাউঞ্জে পরিবেশিত খাবারের ক্ষেত্রে ‘আ-লা-কার্ট’ মেনু নির্ধারিত মূল্যে পাওয়া যায় এবং মদ্যপ পানীয়, বিয়ার ও ওয়াইন গ্রহণের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হয়।
লাউঞ্জটিতে শুধুমাত্র ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে যাত্রীদের প্রবেশের অনুমতি রয়েছে, যা একটি নিয়ন্ত্রিত ও শান্ত পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। প্রশান্ত পরিবেশ, মানসম্মত খাবার এবং আধুনিক যোগাযোগ সুবিধার কারণে এই লাউঞ্জটি বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও প্রিমিয়াম যাত্রীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
বিস্তারিত জানতে: +০১৭১৩-০৬২০২৯
এমটিবি এয়ার লাউঞ্জ
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য আধুনিক ও আরামদায়ক সেবা নিশ্চিত করতে মিচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) পরিচালিত এমটিবি এয়ার লাউঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই লাউঞ্জটি বিমানবন্দরের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত এবং সিঁড়ি বা লিফটের মাধ্যমে সহজেই প্রবেশ করা যায় । প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা এই লাউঞ্জটি প্রায় ২ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে বিস্তৃত, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে যাত্রীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।
এমটিবি এয়ার লাউঞ্জ-এ যাত্রীদের জন্য গরম ও ঠান্ডা স্ন্যাকসের পাশাপাশি সকালের নাশতা, দুপুর রাতের খাবারের পূর্ণাঙ্গ মেনু রয়েছে। দীর্ঘ ভ্রমণের আগে বা ট্রানজিট সময় যাত্রীরা এখানে বসে স্বাচ্ছন্দ্যে খাবার গ্রহণ করতে পারেন। লাউঞ্জে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট সুবিধা থাকায় যাত্রীরা কাজ করতে বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন । এছাড়া ফ্লাইট ইনফরমেশন ডিসপ্লে, আধুনিক কিউএলইডি টিভি, লাইব্রেরি, দৈনিক পত্রিকা ও ম্যাগাজিনের ব্যবস্থাও রয়েছে। যাত্রীদের আরাম নিশ্চিত করতে লাউঞ্জে পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা টয়লেট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পুরুষ যাত্রীদের জন্য রয়েছে পোশাক পরিবর্তন ও শাওয়ার সুবিধা। পাশাপাশি বিনামূল্যে স্থানীয় ফোন কল করার সুযোগ এবং মোবাইল চার্জিং পোর্ট থাকায় যাত্রীরা প্রযুক্তিগত প্রয়োজনও সহজেই মেটাতে পারছেন।
এমটিবি এয়ার লাউঞ্জ-এর বিশেষ আকর্ষণ হলো এর অতিরিক্ত আরামদায়ক সুবিধাসমূহ। এখানে রয়েছে ফুল বডি ম্যাসাজ চেয়ার, ফুট ম্যাসাজ মেশিন, বাতাস
থেকে দূষণ ও ক্ষতিকর উপাদান অপসারণের জন্য এয়ার পিউরিফায়ার এবং জুতা পরিষ্কারের জন্য শু শাইনার মেশিন। এসব সুবিধা যাত্রীদের শারীরিক ক্লান্তি দূর করতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে । বিশেষভাবে এমটিবি কার্ডধারী ও প্রিভিলেজ গ্রাহকদের জন্য আলাদা সুবিধাও চালু রয়েছে। এসব গ্রাহক লাউঞ্জে বসেই তাদের কার্ডের স্ট্যাটাস যাচাই, এন্ডোর্সমেন্ট সুবিধা, বিদেশে ব্যবহারযোগ্যতা চালু বা বন্ধ করা এবং ই-কমার্স সুবিধা সক্রিয় করার মতো বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারেন। এতে যাত্রীদের ব্যাংকিং সংক্রান্ত কাজ বিমানবন্দরেই সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিস্তারিত জানতে: +৮৮০১962-400240
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড সিগনেচার লাউঞ্জ
নিজেদের গ্রাহকদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে আরও আরামদায়ক ও স্মরণীয় করতে হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ডেডিকেটেড লাউঞ্জ রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের। যাত্রীদের যাত্রা শুরুর মুহূর্তকে সর্বোচ্চ মানের সেবার মাধ্যমে সুন্দরভাবে বিদায় জানানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ‘সিগনেচার লাউঞ্জ’ নামের এই লাউঞ্জটি আধুনিক স্থাপত্যশৈলী, নান্দনিক ও বিলাসবহুল ইন্টেরিয়র, উচ্চগতির ওয়াই-ফাই সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্যাটারিং সুবিধায় সজ্জিত। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রায়োরিটি ব্যাংকিং গ্রাহক ও প্রিমিয়াম কার্ডধারীরা এই লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ পান । সিগনেচার লাউঞ্জের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে নকশিকাঁথা নামে একটি প্রতিষ্ঠান। বিস্তারিত জানতে: +৮৮০ ২-৮৯০১৪৪৯
ইউসিবি ইম্পেরিয়াল এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) তাদের ক্রেডিট কার্ডধারীদের জন্য দেশের পাঁচটি বিমানবন্দরে ইউসিবি ইম্পেরিয়াল এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ নেটওয়ার্ক চালু রেখেছে। এর মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রয়েছে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ দুটি পৃথক লাউঞ্জ, যা যাত্রীদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে আরও আরামদায়ক করে তুলছে। ইউসিবি ইম্পেরিয়াল ইন্টারন্যাশনাল লাউঞ্জ -এ ইউসিবি গোল্ড, প্লাটিনাম, বিজনেস ও সিগনেচার ক্রেডিট কার্ডধারীরা নির্দিষ্ট সংখ্যক সঙ্গীসহ প্রবেশের সুযোগ পান ।
আন্তর্জাতিক লাউঞ্জে সিগনেচার ও বিজনেস কার্ডধারীরা সর্বোচ্চ তিনজন সঙ্গী নিয়ে প্রবেশ করতে পারেন, প্লাটিনাম কার্ডধারীরা দুইজন এবং গোল্ড কার্ডধারীরা একজন সঙ্গী নিতে পারেন। অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ লাউঞ্জে কার্ডের ধরন অনুযায়ী এক থেকে তিনজন পর্যন্ত সঙ্গী নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এই লাউঞ্জগুলোতে যাত্রীদের জন্য রয়েছে আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ, হালকা খাবার ও পানীয়, টিভি, সংবাদপত্র, মোবাইল চার্জিং সুবিধা এবং শান্ত পরিবেশে অপেক্ষার সুযোগ। শিশু যাত্রীদের ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা রয়েছে; ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৬ বছরের নিচের শিশুরা বিনামূল্যে লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ পায়। যদি নির্ধারিত সংখ্যার অতিরিক্ত অতিথি নিয়ে লাউঞ্জে প্রবেশ করতে হয়, সেক্ষেত্রে ফি নির্ধারিত রয়েছে। লাউঞ্জ ব্যবহারের জন্য কার্ডধারীদের অবশ্যই নিজ নিজ ক্রেডিট কার্ড প্রদর্শন করতে হয় এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে ট্রাভেল কোটার আওতায় পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্ট বাধ্যতামূলক ।
বিস্তারিত জানতে: +৮৮-০২-৫৫৬৬৮০৭০, +৮৮- ০৯৬১০৯৯৯৯৯৯
ইবিএল স্কাই লাউঞ্জ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রিমিয়াম লাউঞ্জ সেবা দিয়ে যাচ্ছে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল) স্কাইলাউঞ্জ। ঢাকার আন্তর্জাতিক প্রস্থান টার্মিনালে অবস্থিত এই স্কাইলাউঞ্জটি মূলত ইবিএলের গ্রাহকদের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হলেও, এর সেবার মান ও সুযোগ-সুবিধা দেশের বিমানবন্দর হসপিটালিটিতে একটি আলাদা অবস্থান তৈরি করেছে। ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে যাত্রা শুরু করা ইবিএল ঢাকা স্কাইলাউঞ্জ বর্তমানে সপ্তাহের সাত দিন, দিনে ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে। ব্যবসায়ী ও অবকাশ যাত্রী উভয় শ্রেণির ভ্রমণকারীদের প্রয়োজন বিবেচনায় আধনিক ও আন্তর্জাতিক মানের সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। ব্যাংকিং সেবার বাইরেও গ্রাহকদের উন্নত অভিজ্ঞতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসেবে এই লাউঞ্জটি পরিচালিত হচ্ছে।
প্রায় ৬ হাজার ২৭২ বর্গফুট আয়তনের এই লাউঞ্জে একসঙ্গে ১৪০ জনের বেশি যাত্রী বসার সুবিধা রয়েছে, যা দেশের অন্যতম বৃহৎ বিমানবন্দর লাউঞ্জ হিসেবে পরিচিত খাবারের ক্ষেত্রে পাঁচতারকা হোটেল ওয়েস্টিন (ম্যারিয়ট হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টস)-এর তত্ত্বাবধানে পরিবেশিত পূর্ণাঙ্গ বুফে যাত্রীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ যোগ করেছে। লাউঞ্জে রয়েছে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই, দেশি ও আন্তর্জাতিক দৈনিক পত্রিকা ও ম্যাগাজিন, পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা ও সম্পূর্ণ বন্ধ ল্যাভেটরি, শাওয়ার সুবিধা, নারীদের জন্য ডেডিকেটেড মেকআপ এরিয়া এবং পরিবারসহ ভ্রমণকারীদের জন্য বেবি ডায়াপার পরিবর্তন ও শিশুখাদ্য প্রদানের কক্ষ। পাশাপাশি পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক নামাজের কক্ষ এবং নির্ধারিত স্মোকিং জোনও রয়েছে।
বিশেষ সুবিধা হিসেবে স্কাইলাউঞ্জে রাখা হয়েছে পাঠাগার, যেখানে প্রায় ৩০০টি বই, আন্তর্জাতিক বেস্টসেলারসহ নানা সংগ্রহ রয়েছে। এছাড়া রয়েছে ফার্স্ট এইড সুবিধা, মোবাইল চার্জিং ডক, রিয়েল- টাইম ফ্লাইট ইনফরমেশন ডিসপ্লে সিস্টেম, ব্যবসায়িক কাজের জন্য বিজনেস সেন্টার এবং আমন্ত্রণ সাপেক্ষে ব্যবহারের জন্য নিরিবিলি ‘কোয়ায়েট রুম’ । শিশু যাত্রীদের জন্য বেবি স্ট্রোলার ও বিশেষ উপহারও দেওয়া হয় । প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য বিশেষ সহায়তা ও সহজ প্রবেশ ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইবিএল স্কাই লাউঞ্জে প্রবেশের ক্ষেত্রে ইবিএল কার্ডধারীরা নির্দিষ্ট সুবিধা পান। প্রাইমারি ও সাপ্লিমেন্টারি কার্ডধারীরা বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারেন এবং তাদের সঙ্গে ১২ বছরের নিচে সর্বোচ্চ দুই শিশু বিনা খরচে লাউঞ্জ ব্যবহার করতে পারে। নির্ধারিত সংখ্যার বাইরে অতিরিক্ত অতিথিদের জন্য নির্দিষ্ট ফি প্রযোজ্য। এছাড়া ইবিএলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ কিছু আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের বিজনেস ক্লাস যাত্রীরাও বৈধ বোর্ডিং পাস দেখিয়ে এই লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ পান।
বিস্তারিত জানতে: +৮৮০৯৬৬৬-৭৭৭৩২৫
প্রবাসী কল্যাণ লাউঞ্জ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য বিশেষ লাউঞ্জ উদ্বোধন করেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস । হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে এটিই প্রথম প্রবাসী লাউঞ্জ । এখানে বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের বিশ্রামের জন্য জায়গা ও সুলভ মূল্যে খাবার পাওয়া যায়। সুলভ মূল্যে খাবার পরিবেশনের জন্য ভর্তুকি দেয় সরকার। এই লাউঞ্জে বিএমইটি প্রবাসী কল্যাণ ট্রাস্ট কার্ডধারীরা স্বল্পমূল্যে মানসম্মত খাবার, ফ্রি ওয়াই-ফাই, খাবার, ফ্রি ওয়াই-ফাই, টেলিফোন বুথ, টিভি এবং নিরাপদ বসার জায়গার সুবিধা পান। এতে প্রবাসী যাত্রীদের বিমানবন্দরে অপেক্ষার সময়টি আরও নিরাপদ ও আরামদায়ক হয়ে ওঠে। বিস্তারিত জানতে: +৮৮০১৯৭১-৪৩০২০৩, +৮৮০২৮৯০১০৪০
এছাড়া রজনীগন্ধা, দোলনচাপা ও বকুল নামে তিনটি ভিআইপি লাউঞ্জ রয়েছে। রয়েছে চামেলি নামে একটি সিআইপি লাউঞ্জ । এসব ভিআইপি ও সিআইপি লাউঞ্জগুলো অপেক্ষাকৃত বেশি নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাউঞ্জ ব্যবস্থাপনা এখন আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবার একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করছে। সাধারণ যাত্রীদের জন্য থাকা ৯টি লাউঞ্জ যেমন ভ্রমণকে আরামদায়ক করছে, তেমনি ভিআইপি ও সিআইপি লাউঞ্জগুলো রাষ্ট্রীয় অতিথি, কূটনীতিক ও সম্মানিত ব্যক্তিদের জন্য নিশ্চিত করছে বিশেষ মর্যাদা ও গোপনীয়তা। বরং এই লাউঞ্জগুলো শুধু যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য বাড়াচ্ছে না, বাংলাদেশের বিমানবন্দর আতিথেয়তা ও পর্যটন সেবার মানকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, পেশাদার সেবা এবং আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ, যাত্রীবান্ধব ও বিশ্বমানের বিমানবন্দরে পরিণত হচ্ছে যা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।











