■ পর্যটন বিচিত্রা প্রতিবেদক
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে বিলাসবহুল আতিথেয়তার এক অনন্য নাম সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা। কক্সবাজারের ইনানী সৈকতের পাশেই গড়ে ওঠা এই পাঁচতারকা মানের ইকো-রিসোর্ট প্রকৃতি, আধুনিকতা ও আন্তর্জাতিক মানের সেবার এক অসাধারণ সমন্বয় । পূর্বদিকে সবুজ পাহাড় আর পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশি- এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা সি পার্ল যেন প্রকৃতির বুকে গড়ে ওঠা এক বিলাসী স্বপ্নরাজ্য। বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকতের কোলঘেঁষে প্রায় ১৫ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই রিসোর্ট পর্যটকদের জন্য এনে দিয়েছে ভিন্নধর্মী অবকাশযাপনের অভিজ্ঞতা।
প্রধান আকর্ষণসমূহ
সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা ২০১৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় বিলাসবহুল পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। রিসোর্টটির স্থাপত্যে আধুনিক ডিজাইন ও পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার সমন্বয় করা হয়েছে। চারপাশের ল্যান্ডস্কেপ, জলাধার, বাগান এবং ট্রপিক্যাল ফলের বাগান পুরো পরিবেশকে আরও মনোরম করে তুলেছে। শহরের কোলাহল থেকে প্রায় ৪০ মিনিট দূরে অবস্থিত হওয়ায় এটি নিরিবিলি ছুটি কাটানোর জন্য আদর্শ স্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
রুম ও স্যুট
রিসোর্টটিতে রয়েছে মোট ৪৯৩টি বিলাসবহুল রুম ও স্যুট, যা বাংলাদেশের বৃহত্তম রিসোর্ট আবাসনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত। প্রতিটি কক্ষ এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে অতিথিরা একই সঙ্গে সমুদ্র ও পাহাড়ের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন । আধুনিক আসবাবপত্র, ব্র্যান্ডেড অ্যামেনিটিজ, কিচেনেট, ব্যালকনি এবং উন্নত প্রযুক্তি সুবিধা এসব কক্ষকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করেছে।
প্রতিটি রুম ও স্যুটে সমুদ্র ও পাহাড়ের দৃশ্যসমৃদ্ধ ব্যালকনি, আধুনিক কিচেনেট ও ব্র্যান্ডেড অ্যামেনিটিজ এবং আন্তর্জাতিক মানের আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে।“সুপিরিয়র হিল ভিউ” এবং “সুপিরিয়র গার্ডেন ভিউ” কক্ষগুলো প্রায় ৪০০ বর্গফুট আয়তনের। “স্টুডিও সি ভিউ” স্যুটের আয়তন ৫৩৫ বর্গফুট, আর “প্রিমিয়ার সি ভিউ” রুমের আয়তন ৬৯০ বর্গফুট ৷জনপ্রিয় কক্ষসমূহের মধ্যে রয়েছে সুপিরিয়র হিল ভিউ, সুপিরিয়র গার্ডেন ভিউ, স্টুডিও সি ভিউ ও প্রিমিয়ার সি ভিউ।আরও বিলাসবহুল অভিজ্ঞতার জন্য রয়েছে “এক্সিকিউটিভ স্যুট সি ভিউ” এবং “এক্সিকিউটিভ স্যুট হিল ভিউ” (প্রায় ৭২০ বর্গফুট)। এছাড়া “রয়্যাল ফ্যামিলি স্যুট”, “রয়্যাল প্যারাডাইস স্যুট” এবং “প্রেসিডেনশিয়াল স্যুট” রিসোর্টটির সবচেয়ে আভিজাত্যপূর্ণ আবাসন।
“রয়্যাল ফ্যামিলি স্যুট”-এর আয়তন প্রায় ১০৫০ বর্গফুট এবং এতে রয়েছে দুটি বেডরুম। অন্যদিকে ২০২০ বর্গফুটের “রয়্যাল প্যারাডাইস স্যুট” ও ২৫০০ বর্গফুটের “প্রেসিডেনশিয়াল স্যুট” বিলাসিতার চূড়ান্ত উদাহরণ।
ডাইনিং
খাবারপ্রেমীদের জন্য সি পার্ল একটি বিশেষ গন্তব্য। এখানে রয়েছে পাঁচটি বিশেষায়িত রেস্টুরেন্ট, মাল্টি- কুইজিন অল-ডে ডাইনিং সুবিধা, ইনডোর ও আলফ্রেস্কো সিটিং, দুটি বার ও লাউঞ্জ, আইসক্রিম পার্লার এবং জুস বার। দেশীয় খাবারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নানা ধরনের কুইজিন পরিবেশন করা হয়।
বিনোদন ব্যবস্থা
সি পার্লের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এর বিশাল বিনোদন ব্যবস্থা। এখানে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের ওয়াটার পার্ক, টেনিস ও ব্যাডমিন্টন কোর্ট, ৩ডি মুভি হল, বিলিয়ার্ডস, অ্যাম্ফিথিয়েটার, শিশুদের খেলার জোন এবং অত্যাধুনিক জিমনেশিয়াম।
রিসোর্টটিতে রয়েছে দুটি সুইমিং পুল, যার একটি শুধুমাত্র নারীদের জন্য নির্ধারিত। সৈকতের একেবারে পাশে অবস্থিত এই সুইমিং পুলগুলো অতিথিদের জন্য আধুনিক জিম, যেখানে বিভিন্ন থেরাপি ও রিলাক্সেশন ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
করপোরেট সেবা
করপোরেট আয়োজন ও বড় সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্যও সি পার্ল অত্যন্ত জনপ্রিয়। কক্সবাজারের বৃহত্তম কনভেনশন হলগুলোর একটি এখানে অবস্থিত। বিয়ে, সেমিনার, করপোরেট মিটিং, প্রদর্শনী কিংবা আন্তর্জাতিক সম্মেলনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রযুক্তিগত সুবিধা এখানে রয়েছে।
ওয়েলনেস সুবিধার মধ্যে রয়েছে বিলাসবহুল স্পা ও সেবা প্রদান করা হয়। সি পার্লের আরেকটি বড় আকর্ষণ হলো এর সরাসরি সৈকত সংযোগ। অতিথিরা সহজেই নিরাপদ ও নিরিবিলি সৈকতে পৌঁছাতে পারেন। সবমিলিয়ে, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা বর্তমানে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে একটি আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। প্রকৃতি, বিলাসিতা, বিনোদন এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে এটি শুধু কক্সবাজার নয়, পুরো দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় রিসোর্ট হিসেবে পরিচিত।












