■ পর্যটন বিচিত্রা প্রতিবেদন
প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর আবারও বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসা (ট্যুরিস্ট ভিসা) চালু হয়েছে। গত ২৮ জুন ২০২৬ (রবিবার) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভিসা কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তবে এবার ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দালালমুক্ত করতে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (IVAC) নতুন নিয়ম চালু করেছে। ফলে আবেদনকারীদের নির্ধারিত অনলাইন পদ্ধতি অনুসরণ করেই আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
পাঁচটি কেন্দ্রে আবেদন গ্রহণ
নতুন নিয়ম অনুযায়ী দেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেট—এই পাঁচটি আইভ্যাক কেন্দ্রে পর্যটন ভিসার আবেদন জমা দেওয়া যাবে।
প্রথম ধাপ: অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ
ভিসা আবেদন করতে হলে প্রথমেই ভারতীয় ভিসার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নির্ভুলভাবে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। এরপর আবেদনপত্রটি পিডিএফ (PDF) আকারে সংরক্ষণ করে রাখতে হবে, যা পরবর্তী ধাপে ব্যবহার করা হবে।
দ্বিতীয় ধাপ: বাধ্যতামূলক অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং
আগের মতো সরাসরি আইভ্যাকে গিয়ে আবেদন জমা দেওয়া যাবে না। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার অন্তত একদিন আগে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করতে হবে।
প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত নির্ধারিত পোর্টালে লগইন করে আবেদনপত্রের পিডিএফ আপলোড করতে হবে।
এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে—
- আবেদনপত্র ৩০ দিনের বেশি পুরোনো হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
- কোনো সম্পাদিত (Edited) বা বিকৃত (Corrupted) ফাইল আপলোড করলে আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।
- নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সফলভাবে ফাইল আপলোড করলেই পরবর্তী ধাপে যাওয়া যাবে।

ওটিপি ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক
সাইন-আপের সময় আবেদনপত্রে ব্যবহৃত একই ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করতে হবে। এরপর আবেদনকারীর ই-মেইল ও মোবাইলে পৃথক দুটি ওটিপি পাঠানো হবে। উভয় ওটিপি যাচাইয়ের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করতে হবে।
পরবর্তীতে মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করলে আবারও একটি ওটিপি পাঠানো হবে। সেটি যাচাই করার পর আবেদনকারী মূল অ্যাপয়েন্টমেন্ট পোর্টালে প্রবেশ করতে পারবেন।
সন্ধ্যা ৬টায় মিলবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট
প্রয়োজনীয় নথি আপলোডের পর আবেদনকারীকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ওই সময় অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট উন্মুক্ত হলে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করবে।
প্রয়োজনে আবেদনকারী একবারের জন্য সেই সময় পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন।
১,৫০০ টাকা প্রসেসিং ফি
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত হওয়ার পর অনলাইনে ১,৫০০ টাকা আইভ্যাক প্রসেসিং চার্জ পরিশোধ করতে হবে।
উল্লেখ্য, ভারত সরকার ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য কোনো ভিসা ফি নেয় না। তবে আইভ্যাকের এই সার্ভিস চার্জ প্রদান বাধ্যতামূলক।
আবেদন করতে যেসব কাগজপত্র লাগবে
আবেদনকারীকে নির্ধারিত দিনে নিম্নলিখিত কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে আইভ্যাকে উপস্থিত হতে হবে—
- কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদসম্পন্ন মূল পাসপোর্ট এবং অন্তত ২টি খালি পৃষ্ঠা।
- পাসপোর্টের প্রথম চার পাতার ফটোকপি।
- পূর্বের সব পুরোনো পাসপোর্ট (যদি থাকে)।
- গত তিন মাসের মধ্যে তোলা ২×২ ইঞ্চি সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের রঙিন ছবি।
- জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধনের কপি।
- ছয় মাসের কম পুরোনো বিদ্যুৎ, গ্যাস অথবা পানির বিলের কপি।
- চাকরিজীবীদের জন্য অফিসের এনওসি বা প্রত্যয়নপত্র, শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্র পরিচয়পত্র এবং ব্যবসায়ীদের জন্য হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স।
- আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে ১৫০ মার্কিন ডলার সমমূল্যের ডলার এনডোর্সমেন্ট, অথবা আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের কপি, কিংবা পর্যাপ্ত অর্থসহ গত তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে পাসপোর্ট সংগ্রহের তারিখ
ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আবেদনকারীর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহের নির্ধারিত তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে।
নতুন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়ার আশা
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও ডিজিটাল যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দালালচক্রের প্রভাব অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে আবেদনকারীরা নির্ধারিত সময়ে সহজ ও সুশৃঙ্খলভাবে ভিসা আবেদন করতে পারবেন। দীর্ঘ বিরতির পর ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু হওয়ায় চিকিৎসা, পর্যটন ও পারিবারিক ভ্রমণে আগ্রহী বাংলাদেশিদের মধ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে।













