■ পর্যটন বিচিত্রা ডেস্ক
ইরান ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে চলমান সামরিক উত্তেজনার জেরে বিশ্বব্যাপী বিমান পরিবহন শিল্প এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া এই সংঘাতের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান বিমানবন্দরগুলো থেকে ২৩ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। করোনা মহামারীর পর এটিই বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এভিয়েশন অ্যানালিটিক্স ফার্ম ‘সিরিয়াম’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় ফ্লাইট চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। ইরান, ইসরায়েল, ইরাক, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত এবং সিরিয়ার আকাশসীমা প্রায় বন্ধ থাকায় আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলোতেও আকাশসীমায় আংশিক সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতির ফলে বিশ্বের ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক হাব দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন। উড়োজাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এবং অনেক রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এভিয়েশন কোম্পানিগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। অনেক এয়ারলাইনস তাদের ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে অথবা দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল বিকল্প পথ ব্যবহারের চেষ্টা করছে।
ফিশ রেটিং-এর ভাষ্যমতে, এই সংঘাত কতদিন স্থায়ী হবে তার ওপর নির্ভর করছে বিমান সংস্থা এবং পর্যটন শিল্পের ওপর ক্ষতির পরিমাণ। তবে বর্তমান পরিস্থিতি যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে তা বৈশ্বিক পর্যটন ও বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকস-এর মতে, এই পরিস্থিতির কারণে চলতি বছর মধ্যপ্রাচ্যে আন্তর্জাতিক পর্যটকের আগমন ১১% থেকে ২৭% পর্যন্ত কমে যেতে পারে, যার ফলে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে।












