পর্যটন বিচিত্রা প্রতিবেদন
দেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রতিদিন বাড়ছে। বাড়ছে কলকারখানা। বাড়ছে দূষণ। সেই দূষণ মোকাবিলায় যথাযথ উদ্যোগের অনেক অভাব রয়েছে। ২০১২ সাল থেকে ছুটি গ্রুপ ইকো ট্যুরিজমকে প্রোমোট করার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় অবদান রাখতে সচেতন। এর ধারাবাহিকতায় ছুটি রিসোর্ট পূর্বাচলে স্থাপন করা হলো ৫৬ কে ডব্লিউ পি সোলার প্যানেল।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করা হয় এই পরিবেশবান্ধব সোলার প্যানেলের। এতে বিদ্যুৎ খরচ কমবে প্রায় ৩০ শতাংশ। প্রতি বছর কার্বন নিঃসরণ কমবে ৪৯ মেট্রিক টন এবং জ্বালানি রক্ষা পাবে প্রায় ৫১৩৪ গ্যালন। ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ সৌর বিদ্যুৎ নির্ভর হবার পরিকল্পনায় এগোচ্ছে ছুটি রিসোর্ট পূর্বাচল।
ঢাকার অদূরে স্বল্প দূরত্বে অবকাশ যাপনের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ছুটি রিসোর্ট। পূর্বাচল-এর রূপগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত এই রিসোর্টটি রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ৩০ থেকে ৬০ মিনিটের পথ, যা নগরজীবনের ব্যস্ততা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসার জন্য এটিকে একটি আদর্শ গন্তব্যে পরিণত করেছে।

৩৫ বিঘা জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এ রিসোর্টে রয়েছে ২৩টি কক্ষ, মিটিং ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের সুবিধা, উন্নত মানের ডাইনিং এবং পরিবারবান্ধব নানা অভিজ্ঞতা—সবকিছুই গাছপালায় ঘেরা প্রাকৃতিক শান্ত পরিবেশে।
কিভাবে যাবেন ছুটি রিসোর্ট
ঢাকা থেকে পূর্বাচল নিউটাউন এলাকার রাথুরা গালান এলাকায় অবস্থিত এই রিসোর্টটিতে যেতে হলে প্রথমে রাজধানীর যেকোনো এলাকা থেকে কুড়িল বিশ্বরোডে পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কে উঠে সোজা এগিয়ে যেতে হবে। প্রশস্ত এই সড়ক ধরে প্রায় ১০–১৫ মিনিট চললে পূর্বাচল নিউটাউন এলাকায় প্রবেশ করা যায়। এরপর পূর্বাচলের ভেতরের সড়ক ব্যবহার করে রাথুরা গ্রামের দিকে যেতে হবে, যেখানে গন্তব্যটি অবস্থিত। রাথুরা এলাকায় ঢোকার পর স্থানীয়দের সহায়তা বা গুগল ম্যাপ ব্যবহার করে সহজেই নির্দিষ্ট গালান লোকেশনটি খুঁজে পাওয়া যায়। পুরো যাত্রায় সাধারণত ৩০ থেকে ৫০ মিনিট সময় লাগে, এবং ব্যক্তিগত গাড়ি, রাইড শেয়ার বা মাইক্রোবাসে যাতায়াত সবচেয়ে সুবিধাজনক।

কি রয়েছে
রিসোর্টটিতে খোলামেলা পরিবেশ, সবুজে ঘেরা রেস্টুরেন্ট, সুইমিং পুল, শিশুদের জন্য খেলার জায়গা, নৌভ্রমণসহ বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও থাকার সুব্যবস্থা রয়েছে। তবে এই রিসোর্টে আছে ছনের ঘর, বার্ড হাউজ,মাছ ধরার ব্যবস্থা,গ্রামীণ পিঠা ঘর, ঔষধি গাছ আর ফলের বাগান।তবে ছুটি রিসোর্টের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর বড় বড় লেক।
বাংলা খাবারের পাশাপাশি রয়েছে চাইনিজ,থাই, ইন্ডিয়ান খাবার আর তাদের লেকভিউ রেস্তোরাঁ। এখানে বেশ কয়েক ধরনের কটেজের ব্যবস্থা রয়েছে, রুম ভেদে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ। তাছাড়া রয়েছে ডে আউট প্যাকেজ। এসব প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার, দেশীয় পিঠা ও সুইমিং পুলসহ বেশকিছু সুবিধা।












