■ পর্যটন বিচিত্রা প্রতিবেদন
রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে নারায়ণগঞ্জের মেঘনা অববাহিকায় অবস্থিত প্রাচীন বাংলার ঐতিহাসিক রাজধানী সোনারগাঁও। সুলতানি আমল থেকে বারো ভূঁইয়াদের শাসনকাল পর্যন্ত শত শত বছরের ইতিহাস আগলে রাখা এই সোনারগাঁও আজও রূপসী বাংলার লোকজ সংস্কৃতি, প্রাচীন স্থাপত্য ও কারুশিল্পের এক অনন্য প্রতীক। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য যেখানে একসঙ্গে মিলেমিশে গেছে, সেই বড় সর্দার বাড়ি প্রাসাদ ও বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর এখন ভ্রমণপিপাসুদের প্রধান আকর্ষণ।
সোনারগাঁওয়ের প্রধান জাদুঘর কমপ্লেক্সের প্রাণকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহ্যবাহী ‘বড় সর্দার বাড়ি’। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে নির্মিত এই প্রাসাদটি ভারতীয় ও ইউরোপীয় আধুনিক স্থাপত্যরীতির চমৎকার এক মেলবন্ধন। প্রাসাদের সুদৃশ্য অলংকরণ, বারান্দার সুক্ষ্ম কারুকাজ এবং বিশালাকার জলাশয় দর্শনার্থীদের মুহূর্তেই ফিরিয়ে নিয়ে যায় শতবর্ষ আগের কোনো রাজকীয় আবহ আবহাওয়ায়।
বাংলার মাটি ও মানুষের শিল্পচেতনাকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং বিলুপ্তপ্রায় লোকশিল্পের সুরক্ষায় ১৯৭৫ সালে চিত্রশিল্পের মহানায়ক শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন’।
প্রায় ১৫০ বিঘা আয়তনের এক সবুজে ঘেরা প্রাঙ্গণে অবস্থিত এই জাদুঘরের প্রদর্শনী গ্যালারিগুলোতে স্থান পেয়েছে:
-
ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র: মসলিনের ধারাবাহিকতায় তৈরি জামদানি এবং নকশী কাঁথা।
-
মৃৎ ও তামা-পিতল শিল্প: প্রাচীন টেরাকোটা, মাটির পাত্র এবং নিপুণ কারুকাজের পিতল-কাসার তৈজসপত্র।
-
কাঠ ও বাঁশের কারুকাজ: গ্রাম বাংলার ব্যবহৃত বিলুপ্তপ্রায় কাঠের তৈরি নিখুঁত নৌকা ও গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন প্রতিকৃতি।
-
লোকজ বাদ্যযন্ত্র ও অলংকার: গ্রামীণ মেলা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ও হাতে তৈরি গহনা।

কেবল প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহই নয়, জাদুঘর প্রাঙ্গণের শান্ত জলাশয়, মেহগনি ও তালগাছের শাড়িবদ্ধ ছায়াঘেরা পথ এবং নাগোরদোলার মতো গ্রামীণ মেলার আবহ দর্শনার্থীদের এক স্নিগ্ধ অনুভূতি দেয়। প্রাঙ্গণে থাকা লোকজ কারুপল্লীতে শিল্পীদের সরাসরি জামদানি শাড়ি কিংবা মাটির জিনিসপত্র তৈরি করতে দেখা যায়, যা বিদেশি ও দেশি পর্যটকদের কাছে দারুণ উপভোগ্য।
ভ্রমণ সময়সূচী: সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ (ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোগরাপাড়া ক্রসিং থেকে ২ কিমি)। প্রতিদিন সকাল ১০:০০ টা থেকে বিকেল ৫:০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে (সাপ্তাহিক বন্ধ: বৃহস্পতিবার)। ঢাকার গুলিস্তান বা সাইদাবাদ থেকে বাসে চেপে মোগরাপাড়া নেমে রিকশা বা সিএনজিযোগে সরাসরি পৌঁছানো যায়।













