■ পর্যটন বিচিত্রা প্রতিবেদন
ব্যস্ত নগরী ঢাকার যান্ত্রিক জীবন থেকে ক্ষণিকের বিরতি নিতে চান? তাহলে আপনার জন্য রইল এক দারুণ সুযোগ। রাজধানী থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে এমন ১০টি মনোমুগ্ধকর স্থান রয়েছে, যেখানে আপনি একদিনে যেকোন একটি বা সময় বের করে আরও কয়েকটিতে ঘুরে সতেজ ও প্রাণবন্ত হয়ে ফিরতে পারবেন। ইতিহাস, প্রকৃতি, নির্মল বাতাস এবং অ্যাডভেঞ্চার—সবকিছুই পাবেন আপনার এই স্বল্প সময়ের ভ্রমণে। নিচে ঢাকার আশপাশের জনপ্রিয় স্থানগুলো তুলে ধরা হলো:
পানাম নগর
৪০০ বছরের পুরোনো এই নগরীটি ছিল বাংলার একসময়ের রাজধানী। এখানকার প্রায় ৫২টি জীর্ণ দালান বা ভবন মোগল ও ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর মিশ্রণ বহন করে। গুলিস্তান থেকে বাস/সিএনজি করে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও যেতে হবে। সোনারগাঁও জাদুঘরের সঙ্গে এটি একই দিনে ঘুরে দেখা ভালো।
সোনারগাঁও জাদুঘর
পানাম নগরের খুব কাছে অবস্থিত এই জাদুঘরে রয়েছে লোক ও কারুশিল্পের বিশাল সংগ্রহ, যা গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবনধারাকে ফুটিয়ে তোলে। পানাম নগর থেকে হেঁটেই যাওয়া যায়। পানাম সিটির সঙ্গে এই স্থানটি ভ্রমণ করলে সময় সাশ্রয় হবে।
বড় কাটরা
১৬৪৪ সালে মোগল সুবাহদার শাহ সুজার নির্দেশে তার প্রধান কর্মকর্তা আবুল কাসিম দ্বারা নির্মিত এই ঐতিহাসিক ভবনটি একসময় ছিল একটি বিশাল বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও সরাইখানা। এটি মোগল স্থাপত্যের এক চমৎকার নিদর্শন। বর্তমানে এর কেবল ভগ্নদশা অবশিষ্ট থাকলেও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। এটি পুরোনো ঢাকার চকবাজার এলাকায় বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত। ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে সরাসরি রিকশা বা সিএনজিতে চকবাজার এসে বড় কাটরা যাওয়া যায়।
নকশীপল্লী
লোকশিল্প ও কারুশিল্পের প্রতি আগ্রহী দর্শনার্থীদের জন্য নকশীপল্লী একটি দারুণ গন্তব্য। এখানে স্থানীয় কারিগরদের হাতে তৈরি নকশী কাঁথা, মাটির পাত্র, বাঁশ ও বেতের কাজ এবং অন্যান্য হস্তশিল্প প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়। এটি গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরে। সাধারণত বিভিন্ন জেলা বা স্থানে স্থানীয় উদ্যোগে এই ধরনের পল্লী গড়ে ওঠে। (নকশীপল্লীর একটি জনপ্রিয় ধারণা সাভার বা গাজীপুরের দিকে দেখা যায়)। হাতে তৈরি শিল্পকর্ম কেনার সুযোগ থাকে।
নুহাশ পল্লী
গাজীপুরে অবস্থিত এটি প্রয়াত সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের বাগানবাড়ি। এখানে তাঁর তৈরি ভাস্কর্য, সুইমিং পুল, ঔষধি গাছের বাগান এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ মনকে শান্তি দেয়। গাজীপুরের হোতাপারা থেকে সহজেই যাওয়া যায়। প্রবেশ ফি প্রয়োজন। যারা নিরিবিলি ও গাছপালা ভালোবাসেন, তাদের জন্য আদর্শ।
গাজীপুর সাফারি পার্ক
গাজীপুরের এই বিশাল সাফারি পার্কে উন্মুক্ত পরিবেশে বাঘ, সিংহ, জেব্রাসহ নানা বন্যপ্রাণী দেখতে পাওয়া যায়। সাফারির জন্য বিশেষ বাসের ব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী বাসে চড়ে বাঘের বাজার এলাকায় নামতে হবে।
বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক
বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে পরিবেশ সংরক্ষণ ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে এই পার্কটি তৈরি করা হয়েছিল। যদিও নদীর দূষণের কারণে পার্কটির আকর্ষণ কিছুটা কমেছে, তবুও নদীর তীরবর্তী এলাকায় কিছুটা সবুজের ছোঁয়া ও শিশুদের খেলার ব্যবস্থা এখানে পাওয়া যায়। এটি কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকায় অবস্থিত। বুড়িগঙ্গা নদী পার হয়ে কেরানীগঞ্জ থেকে সহজে এখানে পৌঁছানো যায়।
মানা বে ওয়াটার পার্ক
ঢাকার আশেপাশে তৈরি হওয়া আধুনিক ওয়াটার পার্কগুলোর মধ্যে মানা বে ওয়াটার পার্ক অন্যতম। এখানে বড়দের ও ছোটদের জন্য বিভিন্ন ধরনের রোমাঞ্চকর ওয়াটার স্লাইড, সুইমিং পুল এবং রিলাক্স করার সুযোগ রয়েছে। গরমের দিনে এটি দারুণ বিনোদন কেন্দ্র। এটি গাজীপুর বা তার কাছাকাছি কোনো এলাকায় অবস্থিত। গাজীপুরগামী বাসে চড়ে বা ব্যক্তিগত গাড়িতে যাওয়া সবচেয়ে সুবিধাজনক। পার্কে প্রবেশ এবং রাইডগুলোর জন্য উচ্চ প্রবেশ ফি প্রযোজ্য।
বালিয়াটি জমিদারবাড়ি
মানিকগঞ্জে অবস্থিত এটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ এবং প্রাচীন জমিদার বাড়ি। এটি চারটি বড় কাঠামো এবং সাতটি প্রাঙ্গণ নিয়ে গঠিত, যা ঊনবিংশ শতকের জমিদারী শান-শওকতের নিদর্শন। গাবতলী থেকে বাসযোগে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া যেতে হবে।প্রবেশ ফি ৫০ টাকা। ঢাকার পশ্চিম দিকের জন্য এটি সেরা ঐতিহাসিক গন্তব্য।
জিন্দা পার্ক
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত এটি একটি পরিকল্পিত ইকো-পার্ক। পাঁচটি লেক, বিশাল সবুজ বন ও পরিকল্পিত পথ এই পার্কের মূল আকর্ষণ। এটি ফটোগ্রাফি ও বনভোজনের জন্য খুবই জনপ্রিয়। কুড়িল ফ্লাইওভারের নিচ থেকে অটোরিকশা/বাসে কাঞ্চন সেতু। এখানে লেকে নৌকা ভ্রমণেরও ব্যবস্থা রয়েছে।












