■ পর্যটন বিচিত্রা প্রতিবেদন
নামের বিতর্ক ছাপিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে চলছে পয়লা বৈশাখের ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। রংতুলির আঁচড়ে, কাগজ ও বাঁশ-কাঠের কাঠামোয় হচ্ছে বাঘ, প্যাঁচা, পাখি থেকে শুরু করে নানা লোকজ মোটিফ। উৎসবের আমেজে সরগরম চারুকলা প্রাঙ্গণ।
চারুকলার জয়নুল গ্যালারিতে শিক্ষার্থীরা কেউ মোটিফে শেষ রং দিচ্ছেন, কেউ আবার নতুন কাঠামো তৈরি করছেন। বাঘ, প্যাঁচা, চরকা ও নানা পাখির মোটিফে চলছে সূক্ষ্ম কারুকাজ। এবারের আয়োজনের মূল দায়িত্বে আছে চারুকলার ৭১তম ব্যাচ। এবারের প্রতিপাদ্য—‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।
শোভাযাত্রার মূল কাঠামোর মধ্যে থাকছে চার চাকার কাঠের হাতি, কিশোরগঞ্জের টেপা পুতুল, শান্তির পায়রা, মোরগ ও দোতারা। এর পাশাপাশি থাকবে মাছ, বাঘ ও হরিণ শাবক, ছাগল ও ছাগশিশু, কাকাতুয়া, ময়ূর ও ঘোড়া। এ ছাড়া বিভিন্ন মুখোশের মধ্যে থাকবে রাজা-রানি মুখোশ, প্যাঁচা, বাঘ, সিংহ, খরগোশ প্রভৃতি। চারুকলার শিক্ষক শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিটি মোটিফের সঙ্গে বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য মিশে আছে। রংতুলির আঁচড়ে তাঁরা সেই ইতিহাসকে তুলে ধরছেন।
মূল কাঠামোর মধ্যে আছে টেপা পুতুল কিশোরগঞ্জের সংস্কৃতিকে মনে করিয়ে দেবে, মোরগের পেছনে সূর্যের কাঠামো দিয়ে গ্রামীণ সকালের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। শান্তির বার্তা দেবে পায়রা, আর লোকঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে থাকছে সোনারগাঁয়ের কাঠের হাতি। আর বাংলার লোকসংস্কৃতি, বাউল ঐতিহ্য ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে থাকছে দোতারা।












