■ পর্যটন বিচিত্রা প্রতিবেদন
ঢাকা শহর মানেই যানজট আর ব্যস্ততা। তবে এর মধ্যেও ছড়িয়ে আছে এমন অনেক জায়গা, যেখানে সন্তানদের নিয়ে কাটানো যায় দারুণ সময়। একটু পরিকল্পনা করলেই ছুটির দিনটি হয়ে উঠতে পারে আনন্দ, শেখা আর পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য মেলবন্ধন।
রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু একাডেমি শিশুদের জন্য একটি আদর্শ জায়গা। এখানে শুধু খেলাধুলা নয়, রয়েছে নাচ, গান, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কনের মতো নানা সৃজনশীল কার্যক্রম। ফলে শিশুরা যেমন আনন্দ পায়, তেমনি তাদের মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশও ঘটে। ছুটির দিনে এখানে প্রায়ই বিশেষ আয়োজন থাকে, যা পরিবারসহ উপভোগ করা যায়।
শিশুদের ইতিহাস ও দেশের প্রতি ভালোবাসা গড়ে তুলতে যেতে পারেন লিবারেশন ওয়ার মিউজিয়াম-এ। মুক্তিযুদ্ধের নানা নিদর্শন, ছবি ও দলিলপত্র শিশুদের সামনে তুলে ধরে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস। অভিভাবকেরা গল্পের ছলে বিষয়গুলো বুঝিয়ে দিলে তা শিশুদের মনে গভীর প্রভাব ফেলে।
সবুজ পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান হতে পারে চমৎকার গন্তব্য। বিস্তৃত এই উদ্যান শিশুদের জন্য এক খোলা মাঠের মতো—যেখানে তারা দৌড়াতে পারে, খেলতে পারে, আর প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারে। একই সঙ্গে নানা প্রজাতির উদ্ভিদ সম্পর্কে জানার সুযোগও রয়েছে।
অন্যদিকে, একটু ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতার জন্য যেতে পারেন আহসান মঞ্জিলে। পুরনো ঢাকার ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি শিশুদের সামনে অতীতের গল্পকে জীবন্ত করে তোলে। স্থাপত্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাস—সবকিছুর একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা পাওয়া যায় এখানে। এছাড়া শ্যামলীতে রয়েছে ওন্ডারল্যান্ড। যেখানে শিশুদের জন্য রয়েছে নানা রাইড।
বিকেলের সময়টাকে প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে হাতিরঝিল। লেকের পাশ দিয়ে হাঁটা, খোলা আকাশের নিচে সময় কাটানো কিংবা নৌকাভ্রমণ—সবই শিশুদের কাছে আনন্দের। সন্ধ্যার আলোয় হাতিরঝিলের সৌন্দর্য পরিবারের সবাইকে মুগ্ধ করে।
আর যারা আধুনিক বিনোদন খুঁজছেন, তাদের জন্য রয়েছে যমুনা ফিউচার পার্ক বা বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্সের টগি ফান। এখানে গেম জোন, সিনেমা হল, ফুড কোর্ট—সবকিছু একসঙ্গে পাওয়া যায়। শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট খেলার জায়গা থাকায় তারা নিরাপদে সময় কাটাতে পারে।
সব মিলিয়ে, ঢাকার ভেতরেই সন্তানদের নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে নানা বিকল্প। একটু সময় বের করে এই জায়গাগুলোতে গেলে শিশুরা যেমন আনন্দ পাবে, তেমনি শিখবে নতুন কিছু। আর পরিবারের সঙ্গে কাটানো এই মুহূর্তগুলোই হয়ে উঠবে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি।












