■ পর্যটন বিচিত্রা প্রতিবেদন
ঈদ মানেই আনন্দ, মিলনমেলা আর রসনাবিলাস। এই উৎসবকে ঘিরে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে তৈরি হয় ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবার, যার স্বাদ ও বৈচিত্র্য ভ্রমণকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয়। তাই ঈদের ছুটিতে শুধু ঘোরাঘুরি নয়, স্থানীয় রান্নার স্বাদ নেওয়াও হয়ে উঠতে পারে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
রাজধানী ঢাকায় ঈদের সকালে শুরু হয় সেমাই, কোরমা ও পোলাও দিয়ে। পুরান ঢাকার ঘরোয়া রান্নায় যোগ হয় বিখ্যাত কাচ্চি বিরিয়ানি, যা ঈদের আমেজকে আরও বাড়িয়ে তোলে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে এই ঐতিহ্যবাহী খাবার ভাগাভাগি করে খাওয়ার আনন্দই আলাদা। উত্তরের জেলা রংপুর অঞ্চলে ঈদের খাবারে গ্রামীণ স্বাদ বেশি প্রাধান্য পায়। এখানে গরু বা খাসির মাংসের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভর্তা, দুধের পায়েস ও ঘরোয়া পিঠা ঈদের টেবিলকে করে তোলে বৈচিত্র্যময়। সহজ উপকরণে তৈরি হলেও স্বাদে থাকে ভিন্নতা।
পাহাড়ি এলাকা বান্দরবান ও রাঙামাটিতে ঈদের খাবারে পাওয়া যায় ভিন্ন সংস্কৃতির ছোঁয়া। আদিবাসী সম্প্রদায়ের রান্নায় বাঁশের নল ব্যবহার করে তৈরি খাবার, পাহাড়ি মুরগি ও বিভিন্ন ভেষজ মসলা ভ্রমণকারীদের জন্য নতুন স্বাদের অভিজ্ঞতা এনে দেয়। চা বাগান আর সবুজে ঘেরা সিলেট অঞ্চলে ঈদের খাবারে আলাদা বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। এখানে সাতকড়া দিয়ে রান্না করা গরুর মাংস বিশেষ জনপ্রিয়। এর টক-মসলাদার স্বাদ অন্য কোথাও সহজে পাওয়া যায় না। পাশাপাশি বিভিন্ন মিষ্টান্ন ও স্থানীয় রান্না অতিথিদের মুগ্ধ করে।
দক্ষিণাঞ্চল বরিশাল ও উপকূলীয় এলাকায় মাছের পদই থাকে প্রধান আকর্ষণ। ইলিশ, চিংড়ি ও অন্যান্য নদী-সামুদ্রিক মাছ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন রান্না ঈদের ভোজে আলাদা মাত্রা যোগ করে। নারকেল দুধের ব্যবহার এসব খাবারকে আরও সুস্বাদু করে তোলে।
ঈদের ভ্রমণে স্থানীয় রান্না উপভোগ করতে চাইলে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ জায়গায় খাবার খাওয়া, নতুন খাবার ধীরে ধীরে চেখে দেখা এবং অতিরিক্ত খাবার এড়িয়ে চলা ভ্রমণকে স্বস্তিদায়ক করে তোলে।












