ছিদ্দিকুর রহমান
ঈদের ছুটিতে ভ্রমণপিপাসু মানুষের অন্যতম গন্তব্য হয়ে ওঠে সমুদ্র সৈকত। অনেকেই এই সময় ছুটে যান কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকতে। তবে এই জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের কাছেই লুকিয়ে আছে প্রকৃতির আরেক অনিন্দ্য সুন্দর দ্বীপ চর হেয়ার। নির্জনতা, সবুজ বনভূমি ও নীল সাগরের অপার সৌন্দর্যে ঘেরা এই দ্বীপ পর্যটকদের কাছে ধীরে ধীরে আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠছে।
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার শেষ প্রান্তে অবস্থিত চর হেয়ার বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশির বুকে জেগে ওঠা এক মনোমুগ্ধকর দ্বীপ। দূর থেকে দেখলে মনে হয় দিগন্তজোড়া সাগরের মাঝখানে প্রকৃতি যেন নিভৃতে গড়ে তুলেছে এক টুকরো স্বর্গভূমি। অসীম আকাশ, সোনালি বালুকাবেলা আর ঢেউয়ের ছন্দময় শব্দ মিলিয়ে এখানে সৃষ্টি হয়েছে এক অনন্য পরিবেশ।
দ্বীপের ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে গহীন সবুজ বনভূমি; যেখানে ঝাউ, কেওড়া, গেওয়া ও নানা প্রজাতির গাছপালা ছড়িয়ে রয়েছে। এই বনাঞ্চলে সারস, বক, শামুকখোলসহ অসংখ্য দেশি-বিদেশি পাখির বিচরণ দেখা যায়। ভোরবেলায় পাখিদের কিচিরমিচির আর সৈকতে ছুটে চলা লাল কাঁকড়ার দল যেন প্রকৃতির জীবন্ত ছবি আঁকে।
চরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে রয়েছে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল সোনার চর, যেখানে মাঝে মাঝে হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে। এছাড়া আশপাশে রয়েছে চর আন্ডা, চর তুফানিয়া, টাইগার দ্বীপ ও চর কাশেম—যেগুলোও দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয়। পর্যটকদের জন্য চর হেয়ারে রয়েছে তাবু ও কটেজে থাকার ব্যবস্থা। সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ শুনতে শুনতে তাবুতে রাত কাটানো ভ্রমণকারীদের জন্য হয়ে ওঠে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। এছাড়া সৈকতে বসার ব্যবস্থা, বনভূমিতে দোলনা এবং শিশুদের বিনোদনের জন্যও রয়েছে নানা আয়োজন। খাবারের জন্য পাওয়া যায় সাগরের তাজা মাছ, মুরগি ও ভাতসহ বিভিন্ন প্যাকেজ।

চর হেয়ারে যেতে চাইলে ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে লঞ্চে রাঙ্গাবালী হয়ে ট্রলার বা স্পিডবোটে পৌঁছানো যায়। আবার কুয়াকাটা থেকেও সাগরপথে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার অতিক্রম করে সহজেই এই দ্বীপে যাওয়া সম্ভব।
প্রকৃতির নির্জন সৌন্দর্য, পাখির কলরব, নীল সাগর আর সোনালি বালুকাবেলার মায়াবী পরিবেশ—সব মিলিয়ে ঈদের ছুটিতে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে সময় কাটানোর জন্য দক্ষিণের এই স্বপ্নময় দ্বীপ হতে পারে এক অনন্য গন্তব্য।












